ডলারের বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি

0
2427

বিশেষ প্রতিনিধি : ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী  হচ্ছে টাকা। এর প্রতিফলন ঘটছে ডলার-টাকা বিনিময় হারে। দুই বছর আগেও এক ডলার কিনতে ৮৪ টাকা ৪৫ পয়সা ব্যয় করতে হতো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তা নেমে আসে ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা। গত সপ্তাহে ৭৭ টাকা ৬৮ পয়সাতেই মিলেছে ১ ডলার।

এদিকে ডলারের দর পতনে কিছুটা শঙ্কিত দেশের রপ্তানিখাতের উদ্যোক্তারা। শঙ্কার কালো মেঘের ছায়া নীতি নির্ধারকদের উপরেও পড়েছে। ডলারের দর ধরে রাখতে তাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার থেকে ডলার কিনে বাড়তি সরবরাহ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে মুদ্রা বাজারের এ অভিভাবক। চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সাড়ে ৩শ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনেই কিনেছে ৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা তথা ডলারের সরবরাহ বেশি। গত এক বছরে রপ্তানি বাণিজ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও তার বিপরীতে আমদানি কমেছে। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সের প্রবাহেও মোটামুটি ইতিবাচক ধারা বজায় আছে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদে রেকর্ড হয়েছে। চাহিদার তুলনায় যোগান বেড়ে যাওয়ার কারণেই দর হারাচ্ছে ডলার।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্য পণ্যের দাম কমায় গত বছর এ খাতে ব্যয় কম হয়েছে। অন্যদিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিল্পখাতে বিনিয়োগেও ছিল স্থবিরতা। এ কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্প-কাঁচামাল আমদানি হয়েছে কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারা ৬৫ কোটি ২০ লাখ, জানুয়ারি মাসে ২৯ কোটি ৫০ লাখ, ডিসেম্বরে ২৫ কোটি ৬০ লাখ, নভেম্বরে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ, অক্টোবরে ৫৮ কোটি ৫০ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫২ কোটি ৯০ লাখ, আগস্টে ২২ কোটি ৬০ লাখ এবং জুলাইয়ে ৫১ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, রপ্তানি খাতের কথা ভেবেই তারা ডলার কিনছেন। ডলারের দাম আরও পড়ে গেলে রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই ডলারের দর ধরে রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার দরের উঠা-নামার সঙ্গে রপ্তানি খাতের অনেক ভাল-মন্দ নির্ভর করে। ধরা যাক, ডলার-টাকার বিনিময় মূল্য ৮০ টাকা ২০ পয়সা। একজন রপ্তানিকারক ১ লাখ ডলারে এক কন্টেনার পণ্য রপ্তানি করেছেন। তিনি রপ্তানি মূল্যের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় পাবেন ৮০ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ডলারের বিনিময় মূল্য ৭৫ টাকায় নেমে এলে তিনি ১ লাখ ডলারের বিপরীতে পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগমূল্য কমে যাওয়ার কারণে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে তিনি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা কম পাবেন। অথচ তাকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাতে একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here