ডরিণ পাওয়ারের ‘আমলনামা’

0
5405

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৫৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে ডরিণ পাওয়ার। পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত টাকার প্রায় পুরোটাই নিজেদের দুইটি সাবসিডিয়ারি (সহেযোগী) কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে ডরিণ পাওয়ার। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই লোকসানে রয়েছে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি দুটি। মূলত লোকসানি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে পুঁজির জোগান দিতেই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে ডরিন পাওয়ার।

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ডরিণ পাওয়ারের আইপিও আবেদন শুরু। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। ১৯ টাকা প্রিমিয়ামসহ আইপিওতে কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য হচ্ছে ২৯ টাকা।

কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডরিণ পাওয়ার যে দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে আইপিওর টাকা বিনিয়োগ করবে সে দুটি হচ্ছে― নবাবগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশন্স ও মানিকগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশন্স। দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হচ্ছে ডরিন পাওয়ার। এগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট করে। তবে এখনো বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারেনি এগুলো।

প্রসপেক্টাসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কোম্পানি দুটির যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালের জুন মাসে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে না পারার কারণে কোম্পানি দুটি লোকসান গুণছে। গত ৩ বছরে ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশন্স ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ও ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশন্স ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।

এদিকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি দুটির লোকসানের কারণে গত ৩ বছরে ডরিণ পাওয়ারের আয়েও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যদি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি দুটি যদি ভবিষ্যতে মুনাফা করতে না পারে তাহলে ডরিনের মুনাফার ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রসপেক্টাসে দেওয়া তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে ডরিণ পাওয়ার কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০১২ সালে কোম্পানিটির পরিশোধিত ‍মূলধন ৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। মূলত এ সময়ে কোম্পানিটির আয়ের (৫৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা) প্রায় পুরোটাই বোনাস শেয়ার হিসেবে ইস্যু করে পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো হয়। তবে মূলধন বাড়লেও মুনাফার পরিমাণ কমেছে।

দেখা গেছে, ডরিন পাওয়ার কোম্পানিটি ২০১০-১১ হিসাব বছরে মুনাফা করে ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০১১-১২ হিসাব বছরে ২৪ কোটি ৫২ লাখ, ২০১২-১৩ হিসাব বছরে (কনসোলিডেটেড অর্থাৎ সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসহ) ১৩ কোটি ২৯ লাখ, ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে (কনসোলিডেটেড) ১৪ কোটি ৯৮ লাখ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে (কনসোলিডেটেড)১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা মুনাফা করে।

ডরিন পাওয়ার কোম্পানির টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও ফেনীতে ২২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে টাঙ্গাইল কেন্দ্রের, ডিসেম্বর মাসে নরসিংদী কেন্দ্রের ও ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেনী কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রয়ে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি রয়েছে।

৩০ জুন ২০১৫ তারিখে ডরিণ পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) মূল্য ছিল ৩৬.৯৯ টাকা। সম্পদের তুলনায় কোম্পানিটির আয়ের আয়ের হার হচ্ছে ১.৩৭ শতাংশ। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় এ হার অনেক কম।

এর আগে তালিকাভুক্তির সময় ইউনাইটেড পাওয়ারের সম্পদের তুলনায় মুনাফা আয়ের হার ছিল ১৮.২৩ শতাংশ, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের ১১.৮৮ শতাংশ ও শাহজিবাজার পাওয়ারের ৩.০৬ শতাংশ।

এ ছাড়া শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি ব্যবহারের তুলনায়ও মুনাফা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে ডরিণ পাওয়ার। কোম্পানিটির ইক্যুয়িটির তুলনায় মুনাফা অর্জনের হার ৫.৮১ শতাংশ। ইউনাইটেড পাওয়ারের এ মুনাফা অর্জনের হার ছিল ২৫.২৭ শতাংশ, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের ২৮.৭৭ শতাংশ ও শাহজিবাজার পাওয়ারের ৮.৫৯ শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস)-১৬ অনুযায়ি ল্যান্ড ডেভলপমেন্ট (ভূমি উন্নয়ন) অপচয়যোগ্য সম্পদ। তবে ডরিণ পাওয়ার কর্তৃপক্ষ ল্যান্ড ডেভলপমেন্ট সম্পদের উপরে অবচয় চার্জ না করে মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়েছে।

পেছনের খবর : জানুয়ারিতে ডরিন পাওয়ারের আইপিও’র টাকা উত্তোলন

আরো খবর : ডরিণ পাওয়ারের ‘সম্ভাবনা অনেক বেশি’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here