‘ট্রেডার না হয়ে বিনিয়োগকারী হোন’, মুনাফা নিশ্চিত

0
3253

হোসাইন আকমল : বোকামি, অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে শেয়ারহোল্ডাররা ক্যাপিটাল হারায়। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই ক্যাপিটাল মার্কেটে ট্রেডারদের মতো আচরণ করে। বিনিয়োগে আগ্রহীদের ট্রেডার না হয়ে বিনিয়োগকারী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিডিকম অনলাইনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও কোম্পানি সেক্রেটারি এ.কে.এম. কুতুব উদ্দিন।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

কুতুব উদ্দিন বলেন, ট্রেডার না হয়ে বিনিয়োগকারী হোন, তবেই নিশ্চিত হবে মুনাফা অর্জনের পথ। ট্রেডারদের কাজ- শর্ট টাইমে অনেকগুলো শেয়ার সেল-বাই করা । একইভাবে শেয়ারহোল্ডারাও শেয়ার সেল-বাই করতে থাকলে ঝুঁকির বাইরে আসতে পারবেনা। ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, লাভের মুখ দেখতে বা আশঙ্কামুক্ত থাকতে চাইলে পরিকল্পনামাফিক দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে হবে। এর জন্য চাই কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদে বিনিয়োগ। আর প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের ধর্মই বিনিয়োগ দীর্ঘায়ীত করা।

তিনি আরো বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ থাকা বা দর ওঠা-নামা করা অতি সাধারণ একটি ব্যাপার। এখানে বিনিয়োগ করতে চাইলে ৫টি কথা মনে রাখতে হবে শেয়ারহোল্ডারদের। আর তা হলো- লোভ সংবরণ, ট্রেডারদের মতো আচরণ না করা, দেখেশুনে ভাল কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা, মূলধনকে ৩টি অংশে বিভক্ত করা এবং গুজবে কান না দেয়।

কুতুব উদ্দিন বলেন, আমাদের বদ অভ্যাসগুলোর মধ্যে লোভের প্রভাব অতি বেশি। লোভে পড়ে স্বল্প সময়ে অনেক কিছুই অর্জন করতে চাই। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এর পরিণতি ভাল হয়না। এখানে লোভ সংবরণ করে ধৈর্য ধরতে হবে। কোন শেয়ারের আজ দর বেড়েছে বলে পরদিনও দর বাড়বে, এমনটা নাও হতে পারে। লাভের বিষয় নিশ্চিত হলে শেয়ারটি বিক্রয় করে অন্য কোন ভাল শেয়ার ক্রয় করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা সামান্য লাভে দিনের পর দিন টাকা ফেলে রাখি ব্যাংকে। কিন্তু ক্যাপিটাল মার্কেটে ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। রাতারাতি বড়লোক হতে চাই। এই আচরণ ত্যাগ করতে হবে।

কোম্পানি সেক্রেটারি বলেন, মার্কেটে দুর্বল কোম্পানি যেমন রয়েছে, তেমনি ভাল কোম্পানিও রয়েছে অনেক। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, উৎপাদন, মার্কেটিং, সম্ভাবনা সবকিছু ভালভাবে অবগত হয়ে দেখেশুনে ভাল কোম্পানির তালিকা করতে হবে। সময় বুঝে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করলে বিনিয়োগ-ঝুঁকি কমবে।

তিনি বলেন, শেয়ার ক্রয়ের পেছনে হাতের সব টাকা একবারে শেষ করা বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়না। এমন পরিস্থিতিতে মার্কেট পড়তে থাকলে দেউলিয়া হতে সময় লাগবেনা। সুতরাং, মূলধনকে কমপক্ষে ৩টি অংশে ভাগ করে বিনিয়োগ করতে হবে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ধরে নিন, আপনার হাতে ৩লাখ টাকা আছে। এরমধ্যে বুঝে-শুনে ভাল কোম্পানির শেয়ার কিনুন ১লাখ টাকায়। বাজার পরিস্থিতি জানতে কিছুদিন অপেক্ষা করুন। দর পড়তে থাকলে ২য় ধাপে শেয়ারটিতে ১লাখ টাকা বিনিয়োগ করুন। বাকি ১লাখ টাকা শেষ সম্বল হিসেবে হাতে রাখুন, বিপদে পাশে দাঁড়ানো বন্ধুর মতো। বাজরের অবস্থা আরো শোচনীয় হলে সম্ভাবনা বুঝে হাতে থাকা পুঁজি দিয়ে ভাল কোন শেয়ার ক্রয় করতে পারেন।

কুতুব উদ্দিন বলেন, যেসব শেয়ারে আপনি বিনিয়োগ করেছেন, তার দর উঠতে থাকলে বেশি লোভ করবেননা। সুবিধা বুঝে সেল করুন। কারণ, যেকোন সময় শেয়ারদর পড়তে পারে। এরপর ভাল দেখে অার  কোন শেয়ারে তা বিনিয়োগ করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রেও পুঁজিকে ৩ অংশে বিভক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, ভাল শেয়ারগুলোর দর পড়তে পড়তে যত খারাপের দিকেই যাক, আপনাকে ধৈর্যহারা বা হতাশ হলে চলবেনা। অপেক্ষা করুন, কোন একসময় দর উঠবেই।

কুতুব উদ্দিন আরো বলেন, লোভ মানুষকে যেমন সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়, তেমনি  ‍গুজবে কান দিলেও ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল হয়। ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার স্বরূপ পুঁজিবাজারে বিভিন্ন গুজব ছড়াতে পারে শেয়ার কারসাজিচক্র। তাই গুজবে কান দেয়ায় বিচক্ষণতা প্রকাশ পায়না। এমন আচরণ নিতান্তই শিশুসুলভ।

তিনি বলেন, কারসাজিচক্রের গুজবের বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে শেয়ারহোল্ডারদের। দেখা গেল, দুর্বল কোন কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। শেয়ারটির দর আরো বাড়বে বলে কারসাজিচক্র তখন গুজব ছড়ালো। তাদের কথায় ভর করে শেয়ারটিতে আপনি বিনিয়োগ করলেন। তখন কী হবে? এর সহজ উত্তর হলো- একসময় নিঃশেষ হবে আপনার পুঁজি।

কোম্পানি সেক্রেটারি বলেন, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আকৃষ্ট করতে কখনো কখনো গুজব সৃষ্টিকারী বা কারসাজিচক্র নিজেদের মধ্যে শেয়ার সেল-বাই করে। এদের খপ্পরে পড়ে পুঁজি হারাবেননা। গুজবে ভর করে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকুন। ভাল শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করুন, মুনাফা হবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here