টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর

0
653

টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর মূলত ব্যাবহার করা হয় ক্রয় বা বিক্রয় সিগন্যাল পাবার জন্য। এই টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরগুলো যখন সংকেত দেয় তখন সেই গুলো ফান্ডামেন্টাল বিষয়ে তেমন প্রাধান্য দেয় না যেমন  প্রতিষ্ঠানের শেয়ার প্রতি আয়, নিট মুনাফা এবং লভ্যাংশ ইত্যাদি। টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর সাধারণত স্বল্প সময়ের দামের পরিবর্তন (short term price action) গুলোর ওপর ভিত্তি করে সংকেত দিয়ে থাকে।  এই ইন্ডিকেটর গুলো স্বল্প সময়ের বিনিয়োগকারী অর্থাৎ ট্রেডারদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। ঠিক একই ভাবে যারা দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী তাদের কাছে এই ইন্ডিকেটর গুলোর তেমন কোন মূল্য নেই। কিন্তু এই টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরগুলো দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সামনে কেমন ট্রেন্ড হতে পারে সেই বিষয়ে ধারনা দেয়।

টেকনিক্যাল এনালাইসিসে সাধারণত আমরা বেশি কিছু বহুল ব্যাবহারিত ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করে থাকি। নিন্মে সেই গুলোর কিছু সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করা হলো।

১. ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর (Trend indicators) ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর শাধারানত ব্যাবহার করা হয় একটি শেয়ারের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য। অর্থাৎ শেয়ারটি কোন ট্রেন্ডে রয়েছে সেই বিষয়টি বুঝার জন্য। ট্রেন্ড মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে, ঊর্ধ্বমুখী (Uptrend), নিন্মমুখি (Downtrend), সমান্তরাল (Sideway)। মুভিং এভারেজ (Moving Average) এবং ট্রেন্ড লাইন (Trend Line) ব্যাবহার করে আমরা একটি ট্রেন্ডের ধারনা পেতে পারি।

২. স্ট্রেনথ ইন্ডিকেটর (Strength indicators)ঃ স্ট্রেনথ ইন্ডিকেটর দিয়ে সাধারণত বুঝা যায় একটি শেয়ার কতটুকু শক্তিশালি এবং মার্কেট মুভমেন্টের ফলে সেই শেয়ারটির মুভমেন্ট কেমন হতে পারে। এই স্ট্রেনথ ইন্ডিকেটর বলতে আমরা ভলিউম নিয়ে আলোচনা করবো।

৩. ভোলাটিলিটি  ইন্ডিকেটর (Volatility indicators)ঃ ভোলাটিলিটি বলতে আমরা সাধারণত বুঝি একটি শেয়ারের দাম কতটা ওঠানামা করে। অর্থাৎ শেয়ারটির দাম কি খুব বেশি কমে যায় বা খুব বেশি বেড়ে যায়। এই ভোলাটিলিটি দেখে আপনি শেয়ারটির মূল্যর একটি ওঠানামা অনুমান করতে পারবেন। আর এই ভোলাটিলিটি পরিমাপ করার জন্য আমরা বুলিঙ্গার ব্যান্ড (Bollinger Bands) ব্যবহার করবো।

৪. সাইকেল ইন্ডিকেটর (Cycle indicators)ঃ মার্কেটের গতিবিধি বা মুভমেন্ট একটি প্যাটার্ন অনুসরণ করে বার বার পুনরাবৃত্তি ঘটে যাকে আমরা সাইকেল ইন্ডিকেটর বলে থাকি। আমরা এই সাইকেল ইন্ডিকেটর হিসেবে এলিওট ওয়েভ (Elliott Wave)দেখব।

৫. সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স  ইন্ডিকেটর (Support/resistance indicators)ঃ সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স  ইন্ডিকেটর সাধারণত একটি শেয়ারের দাম কতটা কমতে পারে বা কোন লেভেল পর্যন্ত উঠতে পারে সেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারনা প্রদান করে থাকে।  আমরা এই সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স  ইন্ডিকেটর হিসেবে ট্রেন্ড লাইন ব্যাবহার করবো।

৬. মোমেনটাম ইন্ডিকেটর (Momentum indicators)ঃ মোমেনটাম ইন্ডিকেটর সাধারণত একটি ট্রেন্ডের গতির সবলতা,  দুর্বলতা এবং কতটা মজবুত সেই সম্পর্কে ধারনা প্রদান করে থাকে। আমরা মোমেনটাম ইন্ডিকেটর হিসেবে Stochastic, MACD, RSI ইত্যাদি ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here