টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তব সম্মত নয় : ভারতীয় উপদেষ্টা

0
2429

tipaimuk- 1

এস বি ডেস্ক : বাংলাদেশের টিপাইমুখ প্রকল্পটি ছাড় না দেয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় উপদেষ্টারা। কেননা এই প্রকল্প তৈরি করতে হলে বিপুল গাছ কাটতে হবে। আর এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। চলতি মাসের ২৪ তারিখে এক বৈঠকে বন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটি প্রকল্পটি ছাড় না দেয়ার এই তথ্যটি জানায়।

ভারতের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যাতে টিপাইমুখ প্রকল্প ছাড়পত্র না দেয়, সেই পরামর্শ দিয়েছে ওই মন্ত্রণালয়েরই অধীন ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি। কমিটির সাম্প্রতিকতম বৈঠকে বলা হয়েছে-  এ প্রকল্প তৈরী করতে গেলে বিপুল পরিমাণ গাছ কাটতে হবে। বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান সংকুচিত হবে। যা ওই বাঁধ থেকে উৎপাদিত জলবিদ্যুতের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

একই সঙ্গে বিশালায়তন বাঁধের বদলে কয়েকটি ছোট বাঁধ তৈরী করা যায় কী না, তা খতিয়ে দেখতে উপদেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরী ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি। বন দপ্তরের ছাড়পত্র না পেলে বিতর্কিত এই প্রকল্পটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যদিও তা বাংলাদশের জন্য এটা সুখবর।

সূত্র জানিয়েছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটির সাম্প্রতিকতম বৈঠকটি হয়েছে। চলতি মাসের ১১ ও ১২ তারিখ আর তার কার্যবিবরণী চূড়ান্ত হয়েছে ২৪ তারিখ। ওই কার্যবিবরণীতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে কেন টিপাইমুখ প্রকল্পের ছাড়পত্র পাওয়া উচিত নয়।ভারতের বন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটি জানায়, ভারতে ৪৯৭ টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরীর জন্য যত বন কাটতে হয়েছে, তার ২০ গুণ বন শুধু এই একটি টিপাইমুখ প্রকল্পের জন্যই ধ্বংস হবে।

ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটির ব্যাখ্যা দিয়েছে, এ জন্য ৭৮ লক্ষ গাছ কাটতে হবে। ২৪ হাজার হেক্টরেরও বেশী বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, যার মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলও রয়েছে। ভারতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী করতে গড়ে যত বন কাটতে হয়, তার থেকে ১০০ % বেশী বন ধ্বংসের পরিকল্পনা রয়েছে টিপাইমুখ প্রকল্পের।

ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি মনে করে, এই বিপুল পরিমাণ বন ধ্বংস করে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তার পরিমাণ খুব বেশী নয়। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১৬ হেক্টর করে বন ধ্বংস হবে। যা চালু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশী।

জানানো হয়, টিপাইমুখের জন্য প্রয়োজনীয় বনাঞ্চলের মধ্যে যেমন সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে, তেমনই সেখানে রয়েছে অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী। যার অনেকগুলিই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিরল প্রজাতির বলে চিহ্নিত।

মনিপুরের প্রধান মুখ্য বনপালের দেয়া একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি মনে করে,  যে পরিমাণে বনাঞ্চল, প্রাণী ও পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সে ক্ষতি পূরণ করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। যদি বনাঞ্চলের বাইরের জমিতে নতুন করে ব্যাপক আকারে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা না করা হয়। আর ওই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মতও হবে না।

টিপাইমুখ প্রকল্পের জন্য ১২ টি গ্রামের দুহাজারেরও বেশী মানুষকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে মাত্র ৮২৬ জন নিয়মিত কাজ পাবে এই প্রকল্পে।

সব দিক খতিয়ে দেখে ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, প্রকল্পকে যেন ছাড়পত্র না দেওয়া হয়।

টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা বলেন, উপদেষ্টাদের পরামর্শ যদি না মানা হয়, তাহলে তা হবে তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের জয়। যদিও চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া আটকে যাবে কী না, সে ব্যাপারে আন্দোলনকারীরা এখনও সন্দিহান।

আন্দোলনকারীদের নেতা রামানন্দ ওয়াংখেইরেকপাম বলেন, কারিগরী ছাড়পত্র, পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র আগেই পেয়ে গেছে টিপাইমুখ প্রকল্প। এখন যদি সরকার সেই যুক্তি দেখায়, তাহলে? আর ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি তো শুধু পরামর্শই দিতে পারে, তাদের তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here