জ্বালানি প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা

0
517

স্টাফ রিপোর্টার : সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্পে যৌথভাবে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সামিট গ্রুপ, জাপানি মিত্সুবিশি করপোরেশন ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই) কোম্পানি। স্থানীয় মুদ্রায় তা প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। দেশের বেসরকারি খাতে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) ঘোষণা।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার এ উপলক্ষে আয়োজিত সমঝোতা চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সামিট, জিই ও মিত্সুবিশির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, তিন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে।

একই সঙ্গে সেখানে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার দুটি অন শোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে আরো অন্তর্ভুক্ত আছে, ১ লাখ টন সক্ষমতার অয়েল টার্মিনাল ও ৩০০ মেগাওয়াটের এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সব মিলিয়ে এতে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বা ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ হবে। সম্মিলিত প্রকল্পের প্রধান অংশীদার হবে সামিট।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, বিপিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা চুক্তি অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ীতে ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার মোট চারটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যেগুলো জিইর ফ্ল্যাগশিপ ‘৯এইচএ’ গ্যাস টারবাইন দ্বারা পরিচালিত হবে।

৫০ ও ৬০ হার্টজ উভয় ক্যাটাগরিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও দক্ষ গ্যাস টারবাইন এটি। এলএনজি টার্মিনালটিও হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির, যাতে গ্যাসের অপচয় রোধ করে তার পুরোটাই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানো যায়। জিই মূলত বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইকুইটি ও কারিগরি অংশীদার।

অন্যদিকে মিত্সুবিশি থাকছে পুরো সমন্বিত প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে। ২০১৯ সালে কাজ শুরু করে ২০২৩ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় স্টেক হোল্ডার সামিট গ্রুপের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণে উন্নীত হবে।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, সরকারের ভিশন-২০২১ এবং ২০৩০ বাস্তবায়নে সমর্থক হিসেবে সামিট জিই ও মিত্সুবিশির সঙ্গে এ অংশীদারিত্বে যাচ্ছে, যা বেসরকারি খাতে রেকর্ড সর্বোচ্চ এফডিআইয়ের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত খরচে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জিই পাওয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও রাসেল স্টোকস এবং মিত্সুবিশি করপোরেশনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিজনেস ডিভিশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তেতসুজিনাকাগাওয়া।

এর আগে গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সিঙ্গাপুরে মিত্সুবিশির সঙ্গে এ যৌথ উদ্যোগের একটি সমঝোতা স্মারক সই করে সামিট।

উল্লেখ্য, দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেড এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here