জ্বালানি তেলের দাম ১১ বছরে সর্বনিম্ন

1
817
ইকোনমিক টাইমস : আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পণ্যটির দাম ১১ বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসে। এদিন ব্রেন্ট তেল লেনদেন হয় ব্যারেলপ্রতি ৩৬ দশমিক ১৮ ডলারে। এর আগে ২০০৪-এর দাম এ পর্যায়ে নেমে এসেছিল। সে সময় ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম ছিল ৩৬ দশমিক শূন্য ৫ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়া এ দরপতনের অন্যতম কারণ। জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোটে ওপেক উত্তোলন ও সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়ায় এ দরপতন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের উৎপাদনের রাশ টানতে পণ্যটি সরবরাহের এ উচ্চহার অব্যাহত রেখেছে ওপেক। জুনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে সিএলএসএ। পাশাপাশি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারে নেমে আসবে বলেও অনুমান করছে সংস্থাটি।

দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ তেল উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট সরবরাহ চাপের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল রফতানির ঘোষণাও পণ্যটির দাম কমাতে ভূমিকা রাখছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা জ্বালানি তেল রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ১৯৭০ সালের মধ্য ভাগে জ্বালানি তেলের সংকটকালে এ রফতানি বাধা জারি করা হয় দেশটিতে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংস্থা ফিলিপ ফিউচারের বিনিয়োগ বিশ্লেষক ড্যানিয়েল অ্যাঙ বলেন, ব্রেন্ট তেলের দাম ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রফতানির বাধা তুলে নেয়া একটি কারণ হতে পারে। জ্বালানি তেলের দামে এ নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও ৩০ ডলারের নিচে তা নামবে না বলে তিনি মনে করেন।

গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্য অনুযায়ী, চার সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উত্তোলনরত তেলকূপের সংখ্যা ১৭টি বেড়ে এ সপ্তাহে ৫৪১-এ পৌঁছেছে। তেলের দরপতনের কারণ হিসেবে এটাকেও বড় করে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে এ অব্যাহত দরপতন জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর মুদ্রা, সরকারি বাজেট ও বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব ফেলছে। এ দরপতনের সাম্প্রতিকতম প্রভাবটি পড়েছে আজারবাইজানের ওপর। গতকাল প্রতি ডলারের বিপরীতে এর মুদ্রা মানাতের দাম ৪৮ শতাংশ কমে।

বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০১৪ সালের দামের থেকে ৬০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তেল-গ্যাস ক্ষেত্রের পেশাদারি ব্যক্তিদের সংগঠন ইওয়াইয়ের প্রধান সঞ্জিব গুপ্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল রফতানিতে বাধা অপসারণের ফলে স্পট মার্কেটে কোনো প্রভাব না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে পণ্যটির ভবিষ্যৎ দামে এর বাজে প্রভাব পড়তে পারে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল ও কম মূল্য অর্থনীতিকে উদ্দীপ্ত করে। এটি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় হ্রাস করে। এতে ভোক্তাদের ব্যয়যোগ্য (ডিসপোজেবল) আয় বাড়বে, যা অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের উৎপাদনে উপকরণ ব্যয় হ্রাস করে, যা শিল্প ও সেবা পণ্যের দাম হ্রাসে ভূমিকা রাখে। বিপরীতভাবে উচ্চ জ্বালানি তেলের মূল্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস করে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here