জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

0
726

মার্কেটওয়াচ : যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন হ্রাসের প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলন ও সরবরাহ দুই-ই হ্রাস পাওয়ায় এদিন সবগুলো বাজার আদর্শে পণ্যটির দরবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ব্যারেলে ২ ডলার ৩ সেন্ট। এদিন এখানে পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল  ৪৯ ডলার ৮৮ সেন্টে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। সারা দিনের লেনদেনে পণ্যটির দরবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে লন্ডনের ইন্টার কন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়েছে ব্যারেলে ২ ডলার ৩ সেন্ট। এদিন এখানে পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৫০ ডলার ৬১ সেন্টে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। সারা দিনের লেনদেনে ডব্লিউটিআইয়ের মতো ব্রেন্টেরও দরবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির এদিনের দরবৃদ্ধিতে প্রধানত ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের উত্তোলন হ্রাসের খবর। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে ৪১ লাখ ব্যারেল।

এর আগে মঙ্গলবার আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) প্রতিবেদনে তা ৩৯ লাখ ব্যারেল হ্রাসের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে প্লাটস পরিচালিত এক বিশেষজ্ঞ জরিপে তা ২৪ লাখ ব্যারেল হ্রাসের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। গত সপ্তাহে দেশটিতে টানা ষষ্ঠবারের মতো হ্রাস পেল পণ্যটির সরবরাহ।

oil- 3ইআইএর প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের উত্তোলন ৫৫ হাজার ব্যারেল হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ লাখ ২২ হাজার ব্যারেলে। এর মধ্যে টানা তিন সপ্তাহের নিম্নমুখিতায় শেষ হলো দেশটির উত্তোলন। দ্য সেভেনস রিপোর্টের সহসম্পাদক টাইলার রিচি জানান, হ্রাস পাওয়া উত্তোলনের মধ্যে ২৯ হাজার ব্যারেলই কমেছে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া মূল ভূখণ্ডে (লোয়ার ৪৮ স্টেটস)।

এর পর দেশটিতে সামনের দিনগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে টাইলার রিচি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটি উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা বাড়ছে। পুরো গ্রীষ্মে এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলন খাত আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন বৃদ্ধি পেলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য আবারো ৪৫ ডলারের আশপাশে নেমে আসবে বলে মনে করছেন তিনি। এমনকি দরপতনের ব্যাপকতা বেশি হলে তা ৩০ ডলারের আশপাশে নেমে আসারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন টাইলার রিচি।

এদিকে পণ্যটির মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্কভিত্তিক জ্বালানি তেলের বাজার উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান টাইকে ক্যাপিটাল অ্যাডভাইজর্সের বিশ্লেষক জন ম্যাকালুসোর পূর্বাভাস, যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রত্যাশিতভাবে গ্যাসোলিনের মজুদ বৃদ্ধির প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সীমিত হয়ে আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য অঞ্চলের ব্যাহত হওয়া সরবরাহের কিছুটা সহায়তা পাবে বাজার।

oil- 1প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে গ্যাসোলিনের মজুদ বেড়েছে ১৪ লাখ ব্যারেল। যদিও প্লাটসের জরিপে তা ৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছিল।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) পর থেকে নানামুখী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশে অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন হ্রাস পাওয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়। কানাডার দাবানল, কুয়েত ও ফ্রান্সের তেল শ্রমিকদের ধর্মঘট, ভেনিজুয়েলার আর্থিক মন্দা এবং নাইজেরিয়া ও লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময়ের পর থেকে পণ্যটির দাম বেড়েছে ব্যাপক হারে।

এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে নরওয়েতে পণ্যটির উত্তোলন হ্রাসের সম্ভাবনা। দেশটিতে ১ জুলাইয়ের আগে নতুন মজুরি চুক্তির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হলে ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন নরওয়ের জ্বালানি তেল ও গ্যাস খনিতে কর্মরত সাড়ে সাত হাজার শ্রমিক। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মোট উত্তোলনে দেশটির অবদান ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ।

এ বিষয়ে ম্যাকালুসোর মন্তব্য, নরওয়ের শ্রমিকদের ধর্মঘটের প্রস্তুতে যেখানে দেশটিতে উত্তোলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, সেখানে নাইজেরিয়ায় ব্যাহত হওয়া উত্তোলন আবারো ধীরে ধীরে চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তোলন হ্রাসের বিষয়টির সঙ্গে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান ‘মূল্য যুদ্ধের’ বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত।

কারণ নাইজেরিয়া থেকে কমে আসা সরবরাহের সুযোগে বাজার দখল করে নিয়েছে ইরান। দেশটিও বর্তমানে পণ্যটির উত্তোলন ও সরবরাহ চলতি বছরের জানুয়ারিতে উঠে যাওয়া আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আগের পর্যায়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here