জে.এম.আই সিরিঞ্জের আয়ের সাথে শেয়ার মূল্যের অসামঞ্জস্যতা

0
833

স্টাফ রিপোর্ট : গত ১৯ জুন ২০১৩ তারিখে ডিরেক্ট লিস্টিং এর মাধ্যমে ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় জে.এম.আই সিরিঞ্জ (মেডিকেল ডিভাইস লিঃ) কোম্পানির, যদিও চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ২০০৪ সালে এই কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয় । ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের প্রথম দিন থেকেই অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে এই কোম্পানির । ১৯ জুন ২০১৩ হতে ১১ জুলাই ২০১৩ পর্যন্ত টানা ১৫ কার্যদিবস এই কোম্পানির শেয়ার প্রায় ১০% করে বৃদ্ধি পেয়েছে যা শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা এবং প্রায় প্রত্যেকদিন শেয়ারটি বিক্রেতা শুন্য ছিল । কিছুদিন অস্বাভাবিক দরপতন ঘটলেও গতকাল থেকে পুনরায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এই কোম্পানির শেয়ারের মূল্য । এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আজকে ৯% এর উপরে বৃদ্ধি পেয়েছে এই কোম্পানির শেয়ারের মূল্য । একটানা ১৫ কার্যদিবস অল্প সংখ্যক শেয়ার লেনদেনের ফলে এমন অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির পরও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্বাক ভূমিকা পালন করেছে । সাধারণত কোন কোম্পানির বাজার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে থাকে । কিন্তু এই শেয়ারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এরুপ কোন নোটিশ প্রেরন করেনি । এছাড়া বাজার বিশেষজ্ঞরাও এই শেয়ারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কোন যৌক্তিক কারন খুজে পাচ্ছেন না ।

jmi siring
জে.এম.আই সিরিঞ্জ এর শেয়ারের মূল্য চার্ট

এদিকে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে সমাপ্ত বছরের ( জানুয়ারি’১২-ডিসেম্বর ‘১২) জন্য কোম্পানির কর-পরবর্তী প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ ছিল ১২.৩৪ মিলিয়ন টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় ১.১২ টাকা, যা ২০১২ সমাপ্ত বছরের ছিলো কর-পরবর্তী মুনাফা ১১.৫৭ মিলিয়ন টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় ১.০৫ টাকা । কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২৮ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত কোম্পানির ১০৪তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য ১২% নগদ লভ্যাংশ অর্থাৎ প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের জন্য ১.২০ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন  বাজার বিশেষজ্ঞ বলেন, “জে.এম.আই. সিরিঞ্জ এর শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পুরোপুরি অযৌক্তিক । কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অল্প সংখ্যক শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে এমন অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ঘটাচ্ছে যা কোনভাবেই স্বাভাবিক নয় এবং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না”।

তিনি আরও বলেন, এরকম অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন হওয়া শেয়ারে বিনিয়োগ করে পূর্বে অনেক বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকরী সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতেও অনেক বিনিয়োগকারীদের এই রকম মূল্য পরিবর্তনের ফলে নিঃস্ব হবার সম্ভাবনা রয়েছে ।

এছাড়ও, ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্ধ বার্ষিকের (জানুয়ারী ১৩ থেকে জুন ১৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির কর পরবর্তী নীট মুনাফা ৳ ১০.৭৭ মিলিয়ন এবং শেয়ার প্রতি আয় ৳ ০.৯৮ যা গত বছর এ সময়ে ছিল যথাক্রমে ৳ ৭.১৯ মিলিয়ন এবং ৳ ০.৬৫ ।

আবার, ২০১৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত ২য় কোয়ার্টার (এপ্রিল ১৩ থেকে জুন ১৩) এর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির কর পরবর্তী নীট মুনাফা ৳ ৯.৮৫ মিলিয়ন এবং শেয়ার প্রতি আয় ৳ ০.৯০ যা গত বছর এ সময়ে ছিল যথাক্রমে ৳ ৪.৯০ মিলিয়ন এবং ৳ ০.৪৫ ।

বিশ্লেষণ এ দেখা যায়, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০% শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে কিন্তু বাজারে আসার পর থেকে কয়েক  কার্যদিবস এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য প্রায়  ২০০% বৃদ্ধি পেয়েছে । বাজার বিশেষজ্ঞ বলছেন, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন এর সাথে সাথে এর শেয়ারের মূল্যের সামঞ্জস্য থাকা উচিত নইলে  পূর্বের মত অনেক বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here