জেএমআই সিরিঞ্জের দরে ২০১০ সালের আলামত

0
353
123এস বি ডেস্ক :  কোন কারণ ছাড়াই বাড়ছে জেএমআই সিরিঞ্জের দর। এই কোম্পানিকে ঘিরে স্বল্প সময়ে মুনাফা করার প্রবণতাকে ২০১০ সালের আলামত হিসেবেই দেখছেন অনেক। তাদের মতে, বর্তমানে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অবস্থা ২০১০ সালের চেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কর্মকর্তারা শেয়ারটির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। মঙ্গলবার হিসেব অনুযায়ী কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দর দাঁড়িয়েছে ৩০৬ দশমিক ৩০ টাকা। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির পিই রেশিও হচ্ছে ১৫৬ দশমিক ২২ টাকা। প্রধান বাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দর ২০ টাকার নিচে ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির ৩৪ টাকা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। অর্থাৎ কোম্পানিটি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অধিক মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা এখন এই শেয়ারে আগ্রহ দেখালেও। দীর্ঘমেয়াদে তারা ক্ষতির সন্মুখীন হতে পারেন।
এদিকে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এ্যাকাউন্টিং স্টান্ডার্ড (বিএএস) পরিপালন না করে জেএমআই সিরিঞ্জ কর্তৃপক্ষ মুনাফা ও সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। বিএএস হিসেব অনুযায়ী কোম্পানিটি ২০১২ অর্থবছর শেষে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ডেফার্ট টেক্স গণনা না করে মুনাফা বেশি দেখিয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। তাছাড়া সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও একইভাবে ডেফার্ট টেক্স গণনা না করে সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখিয়েছে। ২০১২ অর্থবছরে শেষে জেএমআই সিরিঞ্জ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শেয়ারপ্রতি আয় ১.১২ টাকা করে মুনাফা দেখিয়েছে। যেখানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ‘বিএএস’ অনুযায়ী বহুল আলোচিত ডেফার্ট টেক্স গণনা না করে মুনাফা দেখিয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ডেফার্ট টেক্স গণনা করছে না। যদি ডেফার্ট টেক্স গণনা করা হয় তাহলে চলতি বছরে আয়ের পরিমাণ কমে আসবে।
২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) ছিল ১০ টাকার কাছে। তবে ২০১২ সালে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের কারণে এখন এনএভিপিএস ৪৪.৬১ টাকা করে। যে কোম্পানিটির এতদিন কোন রিজার্ভ ছিল না বললেই চলে সে কোম্পানি ২০১২ সালে পুনর্মূল্যায়ন সুবাদে ৩৫ কোটি টাকা যোগ হয়। তবে এ ক্ষেত্রেও ডেফার্ট টেক্স গণনা না করায় সম্পদের পরিমাণ বেশি।
কোম্পানিটি যদি ডেফার্ট টেক্স গণনা করে তাহলে শেয়ারপ্রতি প্রায় ৯ টাকা করে সম্পদের পরিমাণ কমে আসবে। সে হিসাবে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়াবে ৩৬ টাকার কাছে। বর্তমান বাজারে অনেকেই ‘বিএএস’ অনুযায়ী ডেফার্ট টেক্স গণনা না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ইপিএস বেশি বা মুনাফা দেখিয়ে শেয়ার দর বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর গত আড়াই মাসে কোম্পানিটির শেয়ার ৩৫ টাকা থেকে তিন শ’ টাকায় ওঠে যাওয়ায় সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here