সিনিয়র রিপোর্টার : বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে দুই বছর আগে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয় এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। প্রাথমিকভাবে ২০১৮ সালের মার্চে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছিল।

৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন পঞ্চম ইউনিটটির নির্মাণকাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত মাস আগে আগামী আগস্টে সেখানে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব বলে মনে করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

এমআই সিমেন্টের কোম্পানি সচিব মজহারুল ইসলাম বলেন, নতুন ইউনিটের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করছি, জুলাইয়ের শেষে কিংবা আগামী মাসের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে। এ ইউনিট চালু হলে কোম্পানির বিদ্যমান উৎপাদনক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হবে।

জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে অবস্থিত এমআই সিমেন্টের কারখানার চারটি ইউনিটে বর্তমানে দৈনিক ৫ হাজার ৮০০ টন সিমেন্ট উৎপাদিত হয়। চলমান চারটি ইউনিটের সঙ্গে পাঁচ নম্বর ইউনিটটি চালু হলে উৎপাদনক্ষমতা আরো ৪ হাজার ২০০ টন বাড়বে। ফলে কারখানার দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ১০ হাজার টনে।

২০১৫ সালের অক্টোবরে কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার জন্য দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয় কোম্পানি। নতুন ইউনিটে অত্যাধুনিক ভিআরএম প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এ ইউনিটের মাধ্যমে উন্নত মানের পোর্টল্যান্ড কম্পোজিট সিমেন্ট উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পণ্যের চাহিদা প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে উৎপাদন সক্ষমতার সমান্তরালেই বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছে কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট, যার প্রভাব মুনাফায়ও দেখা যেতে পারে।

এমআই সিমেন্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোম্পানিটি বিক্রি ও মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। ২০১১-১২ হিসাব বছরে ৫৬৫ কোটি টাকার সিমেন্ট বিক্রি করে কোম্পানিটি। এছাড়া ২০১২-১৩ হিসাব বছরে ৬৮২ কোটি, ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে ৭৯৯ কোটি, ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে ৮২৬ কোটি এবং সর্বশেষ ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৯০১ কোটি টাকার সিমেন্ট বিক্রি হয়েছিল।

২০১১-১২ হিসাব বছরে ৫৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে এমআই সিমেন্ট। ২০১২-১৩ হিসাব বছরে ৬৬ কোটি, ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে ৬৭ কোটি, ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে ৬৪ কোটি এবং সর্বশেষ ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৭৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে কোম্পানিটির।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সদ্যসমাপ্ত হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৭৯ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৪৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় এমআই সিমেন্ট। বার্ষিক ইপিএস ছিল ৫ টাকা ১ পয়সা। পূর্ববর্তী হিসাব বছরে তা ছিল যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ৪ টাকা ৩৭ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৯৯ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১১২ টাকা ২০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৭২ টাকা ৬০ পয়সা।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমআই সিমেন্ট ২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ভারতেও সিমেন্ট রফতানি করছে কোম্পানিটি। বর্তমানে এর অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ২২৮ কোটি ৩৩ লাখ। মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ১৭ দশমিক ৫২, বিদেশী দশমিক ৪৩ এবং বাকি ১৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সর্বশেষ বার্ষিক ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৯ দশমিক ৭৮, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২০ দশমিক ৮২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here