জুনে উৎপাদনে যাবে নাভানার নতুন প্রকল্প

0
1034

সিনিয়র রিপোর্টার : ব্যবসায় বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে আগেই ওয়েল্ডিং ব্যবসায় নামে নাভানা সিএনজি লিমিটেড। পাশাপাশি সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) মজুদ কমে আসায় এবং এ খাতের ব্যবসায়িক ধীর প্রবৃদ্ধিতে এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবসায় নামছে কোম্পানিটি। ১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত কোম্পানির এলপিজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী বছরের জুনে।

কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, সরকার সিএনজি ব্যবহারে নিরুত্সাহিত করায় ২০১৫ সালেই এলপিজি প্রকল্পের কাজ শুরু করে নাভানা। বিদ্যমান মূল কোম্পানির সাবসিডিয়ারি হিসেবে নাভানা এলপিজি লিমিটেড নামে নিবন্ধন নিয়ে নতুন কোম্পানি করে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল কোম্পানির অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুনে তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

নাভানা সিএনজির চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারকে নীতিগতভাবে আর উত্সাহিত করা হচ্ছে না। বরং নানাভাবে এর ব্যবহারকে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মুনাফা অর্জন করা কঠিন হওয়ায় দেশের অনেক সিএনজি কনভার্সন ওয়ার্কশপ ও রি-ফুয়েলিং স্টেশন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে সিএনজি খাতের ব্যবসায় মন্দা সত্ত্বেও উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্মত সেবা প্রদানের মাধ্যমে নাভানা সিএনজি তাদের বাজার ধরে রাখার চেষ্ট করছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসা বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে আগেই দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যা এরই মধ্যে উৎপাদনে রয়েছে। এলপিজি ব্যবসার ভবিষ্যত্ সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে গত বছরই নতুন এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের জুনে এ প্রকল্পে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সিএনজি ব্যবসায় মন্দা তৈরির আশঙ্কা থেকেই এলপিজিতে বিনিয়োগ করছে নাভানা সিএনজি। দেশের পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির জোগান মূলত আমদানিনির্ভর। প্রায় এক দশক আগে আমদানিনির্ভর জ্বালানি থেকে চাপ কমাতে দেশের যানবাহনগুলোয় সিএনজি ব্যবহারকে উত্সাহিত করে তখনকার বিএনপি সরকার। এক্ষেত্রে মূল বিবেচনায় ছিল পরিবেশ।

তবে কয়েক বছর পর দেশের প্রকৃত গ্যাস প্রাক্কলিত মজুদ অপেক্ষা কম রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দেন। এমন অবস্থায় দেশীয় প্রেক্ষাপটে বিদ্যুত্ ও সার উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানাবিধ কারণে ‘জ্বালানি নীতিমালার’ পরিবর্তন ঘটে থাকে। যানবাহনে গ্যাসের ব্যবহারকে অনেকটাই নিরুত্সাহিত করা হয়। আর এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এলপিজি প্রকল্পে যায় নাভানা সিএনজি।

নাভানা সিএনজির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাঁচ ধরেই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে নাভানা সিএনজি। ২০১২ সালে কোম্পানির নিট রেভিনিউ ১৪৪ কোটি থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ হিসাব বছর ১৫ মাসে গণনা করায় এ বছর রেভিনিউ ২৫০ কোটি টাকা ছাড়ায়।

অর্থ আইন অনুযায়ী সর্বজনীন অর্থবছর গণনা করতে ১৮ মাসে সর্বশেষ হিসাব বছর শেষ করে নাভানা সিএনজি। ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে সাবসিডিয়ারি ওয়েল্ডিংসহ কোম্পানির মোট রেভিনিউ হয় ২৫৭ কোটি ১৭ লাখ ২২ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল কোম্পানির সিএনজি বিক্রি, কনভারসেশন ও সার্ভিস থেকে আসে ১৬৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

বাকি আয়ের মধ্যে ইউপিভিসি পাইপ থেকে আসে ৬০ কোটি ৬২ লাখ টাকা ও ইলেকট্রোড ওয়েল্ডিং থেকে আসে ২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয় ১৫ কোটি ৬০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। বছর শেষে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা। সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি।

২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে আসা নাভানা সিএনজি মূলত যানবাহনের জ্বালানি ব্যবস্থা রূপান্তরের কাজ করে। এর বাইরে তারা সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি আমদানি, বিক্রি, স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিক্রয়োত্তর সেবাও দিয়ে থাকে। নতুন এলপিজি ইউনিটের অধীনে কোম্পানিটি এলপিজি, এলএনজি, সিএনজি, প্রোপেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনসহ বিভিন্ন গ্যাস আমদানি-রফতানির মতো কাজ করবে।

নাভানা সিএনজির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৯২; যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৩ দশমিক ৪৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ার।

এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত দেড় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার ১ দশমিক ৬ শতাংশ দরবেড়ে সর্বশেষ ৬৬ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয় নাভানা সিএনজির শেয়ার। সমাপনী দর দাঁড়ায় ৬৭ টাকা ২০ পয়সা।

সর্বশেষ এজিএমে অনুমোদিত নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ২১ দশমিক ৫৪, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ১৮ দশমিক ৯৮।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here