জুট মিলগুলোতে আর্থিক সংকট চরমে

0
445

স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বে পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের ২৭টি পাটকল থেকে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। দিনের পর দিন গুদামে জমা হচ্ছে। এতে অবিক্রিত পাটজাত পণ্য মজুদ হয়ে আছে। এসব পণ্যের মূল্য ৬ শত ৩৮ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের উৎপাদিত পণ্যের অবিক্রিত পণ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ শত কোটি টাকার মত। একই সাথে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলগুলোতে কাঁচা পাটের সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। যে কারণে এর লোকসানের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরে দেশের ২৭টি পাটকলের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ শত কোটি টাকার মত বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২৯ বছর পর ২০১১ সালে সরকারি ২৭টি পাটকল ১৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। এ সংবাদে এ অঞ্চলের পাট চাষিরা নতুন করে পাট নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্ত পরের বছরই সেই পুরনো লোকসানের আবর্তেই ফিরে যায় পাটকলগুলো। পাটচাষ ও পাট ব্যবসার উপর নির্ভরশীল ৩ কোটি মানুষ সামনে হতাশার মেঘ নেমে আসে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ লোকসান দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ লোকসানের পরিমাণ এক লাফে গিয়ে দাঁড়ায় ৩ শত ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়। আর চলতি অর্থবছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত লোকসান দাঁড়ায় ২০১ কোটি টাকা। আর অর্থবছর শেষে এ লোকসানের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের পাট সেক্টরে ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ব্যাংকগুলো থেকে এখনও খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে কোন টাকা ছাড় দেয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে ২শ’ কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন বা বিজেএমসি ৪০%, ব্যক্তি মালিকানাধীন পাটকলগুলো ৪০% এবং পাট ব্যবসায়ীরা (সিপার) ২০% পাবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

একদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে যেমন অর্থ ও কাঁচাপাটের অভাব রয়েছে তেমনি উৎপাদিত পণ্যও পড়ে আছে অবিক্রিত অবস্থায়। বহির্বিশ্বে বাজার সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে না পারায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর এহেন করুণ দশা বলেও অনেকে মনে করেন। মধ্যপ্রাচ্যে যদিও পাটপণ্যের চাহিদা কমেছে কিন্তু এজন্য অন্য কোন দেশে মার্কেটিং করা হলে বিপুল পরিমাণ পণ্য অবিক্রিত থাকত না বলেও কেউ কেউ মনে করেন। তবে এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার খোঁজার যেমন সম্ভব হচ্ছে না। তেমনি নতুন নতুন বিশ্ববাজার সৃষ্টি করা যাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here