জীবন বীমা ব্যবসায় শীর্ষ ৫ কোম্পানি

0
2446

সিনিয়র রিপোর্টার : বরাবরের মতো জীবন বীমা খাতে দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায় এগিয়ে আছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো— ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ, পপুলার লাইফ, ডেল্টা লাইফ ও মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। গ্রাহক আস্থা ধরে রাখার কারণেই কোম্পানিগুলো ভালো ব্যবসা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রচারণার মাধ্যমে আরো বেশিসংখ্যক মানুষকে জীবন বীমার আওতায় আনা সম্ভব। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোরও উচিত গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে আধুনিক বীমা পলিসি নিয়ে আসা।

জানা যায়, এবারো জীবন বীমা ব্যবসায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৪ সালেও ব্যবসার শীর্ষ অবস্থানে ছিল কোম্পানিটি।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) উপাত্ত অনুসারে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ২০১৬ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৩২৫ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৬০০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৯২৫ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাত্ ২০১৫ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ২৫৬ কোটি ২০ লাখ ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৫৯৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সে বছর তাদের মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ হয় ৮৪৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা গ্রাহকদের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেবার মান ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ধারাবাহিকতার কারণেই গ্রাহকরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন।

এদিকে ব্যবসার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ, তৃতীয় পপুলার লাইফ, চতুর্থ ডেল্টা লাইফ ও পঞ্চম স্থানে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

ন্যাশনাল লাইফ ২০১৬ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ২০২ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৬১৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৮১৭ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাত্ ২০১৫ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ২০৭ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৫৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, গ্রাহকস্বার্থ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টা সবসময়ই আমাদের মাথায় থাকে। তাই গ্রাহকরাও এখন আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন। ব্যবসা বৃদ্ধির এটাই অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি।

আইডিআরএর তথ্যমতে, পপুলার লাইফ ২০১৬ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ২৫০ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৩৫০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১৭০ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৫০০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

ডেল্টা লাইফ ২০১৬ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১৬৪ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৪২১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৫৮৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১৪৪ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৪১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

মেঘনা লাইফ ২০১৬ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১০৯ কোটি ও নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৩১৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৪২৪ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ১১৯ কোটি ১০ লাখ ও নবায়ন প্রিমিয়াম ৩২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের ব্যবসায় পলিসিটা গ্রাহকদের নিয়ে। দেশের সব প্রান্তে আমরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছি।

জানা যায়, বিদায়ী বছরে দেশের সরকারি-বেসরকারি ৩২টি জীবন বীমা কোম্পানির নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছর বেড়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে বিদেশী বীমা কোম্পানি মেটলাইফ। গেল বছর কোম্পানিটি নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ৪৫৯ কোটি টাকা। দেশের একমাত্র সরকারি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা করপোরেশন ১১০ কোটি টাকা নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশের সরকারি-বেসরকারি ৩২টি বীমা কোম্পানি নতুন পলিসি বিক্রি থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ৩৭০ কোটি টাকা বেশি প্রিমিয়াম সংগ্রহ হয়েছে। অর্থাত্ ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে। একই সময়ে কোম্পানিগুলোর নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাত্ নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে ১২৩ কোটি টাকা।

২০১৬ সালে কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। আগের বছরে তা ছিল ৭ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। সার্বিক প্রিমিয়াম সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে ৪৯৩ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here