জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা সিপিডির

0
271

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় বাজেট ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, এ বাজেটের ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েই গেল। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিপিডির কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়।

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, এবারের বাজেট মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে না পারলেও যেন বাড়িয়ে না দেয়। দেশের শিল্পখাত, কৃষিখাতসহ বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ব্যয় যাতে বেড়ে না যায়। কিন্তু এসব প্রত্যাশার কোনোটিই এ বাজেটে রক্ষিত হয়নি। যারা বেআইনিভাবে টাকা আয় করেছে, তাদের ধরার জন্য কোনো উদ্যোগ নেই।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় একই স্থানে বাজেটের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে জানান সিপিডি কর্মকর্তারা। এ সময় সিপিডির অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন আইনের আঙ্গিকে বাজেটের অনুমিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করায় অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, যে অনুমানগুলো তিনি (অর্থমন্ত্রী) ওখানে বলেছেন তার অন্তত তিন-চারটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী মনে করছেন রেমিটেন্স আয় বিগত বছরগুলোর মতো ভালো থাকবে। এর মধ্যে রেমিটেন্স আয় যে কমে যাচ্ছে, সে বিষয়টি সেখানে বিবেচনায় আসেনি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় অনুযোগ এবং আমরা বার বার বলেছি যে, প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। অনুমানের ভিতরে অবশ্যই আমাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি আনতে হবে। কত পরিমাণ মানুষ এ বাজারে ঢুকছে সেটা অর্থমন্ত্রী বলেছেন। কিন্তু এ অনুমানের ভিত্তি কী, কত বেকারত্ব কমবে বা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবেÑ এ ধারণাওটিও থাকা দরকার ছিল।

তিনি বলেন, যে মূহূর্তে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ২৬ শতাংশ বাড়তে যাচ্ছে, সে মূহূর্তে তারা একটি পরিসংখ্যানের ফাঁদে পড়ে গেছেন। অর্থাৎ এ জন্য সরকারকে অর্থায়ন সমাবেশ করতে হবে। অর্থায়ন সমাবেশে অর্থের উৎস সম্পর্কে বলা হচ্ছে করের পরিমাণ বাড়বে ৩৪ শতাংশ। এক বছরে তিন ভাগের এক ভাগ করের পরিমাণ বাড়া সহজ ব্যাপার নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।। এ জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা, কাঠামোগত পরিবর্তন, নীতি সংস্কার এবং অন্যান্য সক্ষমতার দরকার তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কাছে অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, তারপরও যখন মেলানো যায়নি তখন বৈদেশিক সাহায্যকে ৯৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বৈদেশিক সাহায্যের ব্যবহার। সাড়ে সাত বিলিয়নকে ব্যবহার করা হবে। যেখানে আমরা দুই-তিন বিলিয়নকে ব্যবহার করতে পারি না। সেখানে এটা কীভাবে হবে তা আমাদের কাছে বোধগম্য না।

সামাজিক খাত এবং ভৌত খাতের ভিতরে অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে বলে সিপিডি মনে করে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে এ বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাথাপিছু ব্যয় কমে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here