রাহেল আহমেদ শানু : ‘জরিমানা’ নিয়ে জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গত এক বছর আগে দায়ের করা মামলা এখন পর্যন্ত আদালতে চলমান। মঙ্গলবার সকালে কোম্পানির সেক্রেটারি উজ্জ্বল কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
একই সঙ্গে ১৯৮১ সালে শুরু হওয়া জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবসা পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। যে কারণে কোম্পানির দীর্ঘ সময়ের ঐতিহ্যগত ইপিএস বৃদ্ধির ধারা অব্যহত রাখতে পারেনি।
জিকিউ বলপেন আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি) কোম্পানির চার পরিচালকের জরিমানা করে। জরিমানা ও তথ্য উপস্থাপন নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দূরত্ত্ব বাড়তে থাকে।
বিএসইসি গত বছরের ২০ মে জিকিউ বলপেনের ৪ পরিচালকের আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে জরিমানা কমিয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই অর্থ দিতে নারাজ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাই উচ্চ আদালতে গিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে রিট করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
জিকিউ পরিচালকরা হলেন- কাজী সালেমুল হক, সালমা হক, কাজী এম সারোয়ার সালমান এবং সারা হক।
মামলা সম্পর্কে কোম্পানির সেক্রেটারি উজ্জ্বল কুমার সাহা বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেতে আদালতে মামলা করেছি। তা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। তবে মামলার শুনানি কবে হবে তা তিনি বলতে পারেননি। গত এক বছর পর্যন্ত মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
তবে ইপিএস কম হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আরো কিছু ব্যবসা ছিল, সে সব বর্তমানে বন্ধ হওয়ায় তার প্রভাব ইপিএসে পড়েছে।
কি ধরণের ব্যবসা ছিল এবং কবে নাগাদ বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে তিনি কোম্পানির প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তার (সিএফও) সঙ্গে কথা বলেতে বলেন।
জিকিউ বলপেন ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেডের সিএফও মো. শাজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানি থেকে বলা হয় ‘সিএফও এসব বিষয়ে কথা বলেন না।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয় ২ বছর আগে। বিএসইসি রিভিউ শেষ করতে সময় পার করে এক বছরের বেশি।
রিভিউয়ের বিপরীতে পরিচালকদের ওপর ধার্যকৃত জরিমানার পরিমাণও কমানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এবার জরিমানার অর্থ নিয়ে আদালতে দণ্ডায়মান দুটি প্রতিষ্ঠান। যা আশঙ্কাজনক।
বিবিধ খাতের কোম্পানি জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাইট শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়েছিল ২০১৩ সালে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১:১.৫০ অর্থাৎ একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১.৫টি রাইট শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
এজন্য কোম্পানিটি বাজারে ১ কোটি ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৭টি রাইট শেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে, সে সময়ে প্রতিটি রাইট শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ৩০ টাকা। এরমধ্যে ১০ টাকা ফেস ভ্যালু ও ২০ টাকা প্রিমিয়াম। এখন সব ভেস্তে গেছে।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেখা গেছে, কোম্পানির কোন শেয়ার লেনদেন হয়নি। ৬৬.৮০ টাকায় শেয়ার দর স্থির হতে দেখা যায়।

gqউল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কোম্পানির ইপিএস ছিল ২.৪১ টাকা, ২০১৩ সালে কোম্পানির ইপিএস ছিল ৩.৩৯ টাকা এবং তার আগের বছর ২০১২ সালে ছিল ৮.৩০ টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদন দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here