জিবিবি পাওয়ারকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের নির্দেশ

0
266

আদালত প্রতিবেদক : পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) গ্যাসের মূল্য বাবদ সুদ সমেত প্রায় ১৫ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে হবে জিবিবি পাওয়ার লিমিটেডকে। দীর্ঘ বিবাদের পর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটিকে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)।

২০ টি সমান মাসিক কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করবে তারা। এদিকে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী তিন বছর তাদের নিট মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস) এর নেতিবাচক প্রভাব থাকবে।

সম্প্রতি স্টক এক্সচেঞ্জকে জিবিবি পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিইআরসির সালিশি ট্রাইব্যুনাল গত ১০ জানুয়ারি জিবিবি পাওয়ার ও পিজিসিএলের মধ্যকার মামলাটি নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুসারে গ্যাসের মূল্য বাবদ (হাই হিটিং ভ্যালু অনুযায়ী) পিজিসিএলের দাবীকৃত ১৪ কোটি ৭০ লাখ ৫২ হাজার ৮০ টাকা পরিশোধ করতে হবে জিবিবি পাওয়ারকে।

তাছাড়া দেরিতে বিল পরিশোধের কারণে এর বিপরীতে প্রযোজ্য কিছু সুদও পরিশোধ করতে হবে তাদের। অবশ্য মামলা চলাকালীন (২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত) সময়ের জন্য কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। বকেয়া বিল ও সুদের টাকা ২০ টি সমান মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে জিবিবি পাওয়ারকে। এরই মধ্যে সুদসমেত বকেয়া বিলের পরিমাণ উল্লেখ করে জিবিবি পাওয়ারকে চিঠি দিয়েছে পিজিসিএল। সালিশি আদালতের আদেশ বিইআরসি অনুমোদন করেছে এবং বিইআরসি আইন ২০০৩ অনুসারে এটি চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

এদিকে আগামী তিন বছর জিবিবি পাওয়ারের নিট মুনাফা ও ইপিএসের ওপর এ অর্থ পরিশোধের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে জিবিবি পাওয়ারের কোম্পানি সচিব এস এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, পিজিসিএলের বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য বিইআরসি আমাদের নির্দেশ দিয়েছে। আইন অনুসারে তাদের আদেশই চূড়ান্ত, তাই বকেয়া পরিশোধ করতেই হবে। আর স্বাভাবিকভাবেই এ টাকা দিতে গেলে আগামী তিন বছর কোম্পানির নিট মুনাফা ও ইপিএস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানা যায়, পিজিসিএলের সঙ্গে জিবিবি পাওয়ারের চুক্তি অনুসারে গ্যাসের মূল্য হাই হিটিং ভ্যালুর (এইচএইচভি) ভিত্তিতে পরিশোধ করার কথা। কিন্তু জিবিবি পাওয়ার লো হিটিং ভ্যালু অনুসারে (এলএইচভি) গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করে। এ নিয়ে পিজিসিএল ও জিবিবি পাওয়ারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জিবিবি পাওয়ার আদালতে মামলা করে। গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়টি টেকনিক্যাল হওয়ার কারণে আদালতের পক্ষ থেকে এটি নিষ্পত্তির জন্য বিইআরসির সালিশি ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে অবশেষে সম্প্রতি বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে রায় দেয় বিইআরসির সালিশি ট্রাইব্যুনাল। এর ফলে গ্যাসের মূল্য বাবদ ১৪ কোটি ৭০ লাখ এবং দেরিতে বিল পরিশোধের কারণে সুদ বাবদ আরো ১৬ লাখ টাকা অর্থাৎ সবমিলিয়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মত বকেয়া পরিশোধ করতে হবে জিবিবি পাওয়ারকে।

এ বিষয়ে পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) মো. আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি বলেন, জিবিবি পাওয়ার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে এইচএইচভির পরিবর্তে এলএইচভির ভিত্তিতে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এলএইচভির ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আমরা মেনে নেইনি। এ কারণে তারা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সরণাপন্ন হয়। দীর্ঘদিন ধরে আইনী লড়াই চলার পর শেষ পর্যন্ত পিজিসিএলের অনুকূলে রায় এসেছে।

জিবিবি পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ১১ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা। এর আগের ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা নিট মুনাফার বিপরীতে ইপিএস হয়েছে ৯২ পয়সা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

২০১২ সালে তালিকাভুক্ত জিবিবি পাওয়ারের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০১ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালক ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ৫৭ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার।

ডিএইতে সোমবার সর্বশেষ ১৬ টাকা ৩০ পয়সায়  জিবিবি পাওয়ারের  শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এর সর্বোচ্চ দর ছিল ২৬ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here