স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামে অবস্থিত জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার তরল লোহার ট্যাঙ্ক (ফার্নেস) বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন ১১ শ্রমিক। এর মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে। উপজেলার ছোট কুমিরা জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় মঙ্গলবার ভোরে ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

আহত ১১ জনের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ৮ জনকে চচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয় হয়েছে।

তারা হলেন- আবদুর রবের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০), আনছার আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (২৭), বাদশা মিয়ার ছেলে সোলায়মান (২৮), মতিউর রহমানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম (২৮), আবদুল হকের ছেলে শাহ আলম (৩২), তাজুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর (২৭), আজিজুর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৬), আতাউল হকের ছেলে আলাউদ্দিন (২৮)।

চমেক বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক ডা. মৃণাল কান্তি দাশ জানান, জিপিএইচ কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ জনকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী শাহ আলমের শরীরের ১০০ ভাগ পুড়ে গেছে। একই বয়সের আনোয়ার হোসেনের পুড়েছে ৬০ ভাগ। ২২ বছর বয়সী দমিনি নামের আরেকজন কর্মীর পুড়েছে ৯০ ভাগ। সোলায়মানের পুড়েছে ৯০ ভাগ। সবচেয়ে বড় কথা তাদের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া মিজানুর রহমানের ২০ ভাগ, ইউসুফের ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। তবে তাদের শ্বাসনালি ঠিক আছে।

তিনি বলেন, ৬০ ভাগ পুড়ে গেলে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আইসিইউ বেড নেই। এ ধরনের সিরিয়াস রোগীদের উন্নত চিকিৎসা কেবল ঢাকাতেই সম্ভব। দুপুরে জিপিএইচের কর্মকর্তারা বার্ন ইউনিটে এসে অ্যাম্বুলেন্সে করে আশঙ্কাজনক কর্মীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।

এদিকে চমেকে আসা জিপিএইচের দুই কর্মকর্তা মুক্তাদির ও সাইদুজ্জামান জানান, আকস্মিকভাবে মেটাল হিট লেগেছে কর্মীদের শরীরে। দুর্ঘটনার শিকার হওয়া কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে আমরা চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাদের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠাচ্ছি। তাদের চিকিৎসার সব ব্যয়ভার জিপিএইচ কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান জানান, জিপিএইচ কারখানার লোহা গলানোর চুল্লিতে ভোর রাতে বিস্ফোরণ ঘটলে ১১ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ছয়জনকে  ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলেছে। অন্যরা এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here