জিকিউ বলপেনের রাইট অনিশ্চিত !

0
572

সিনিয়র রিপোর্টার : জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের রাইট শেয়ার অনুমোদন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ‍সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) গত আগস্টে আবেদন করা হলেও তা অনুমোদন না পাওয়ার সম্ভাবনাই অনেক বেশি। অন্যদিকে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ রাইট শেয়ার নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী হলেও আটকা পড়ার সম্ভাবনা অনেক।

আটকা পাড়ার কারণ হিসেবে রয়েছে, ২০১২ সালের মে মাসে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে জরিমানা মওকুফ নিয়ে আদারতে রিট করলে তা এখনো চলমান রয়েছে। অন্যদিকে জিকিউ গ্রুপের মালিক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিকিউ বলপেন আর্থিক প্রতিবেদনে ‘বানোয়াট’ কিছু তথ্য উপস্থাপন করায় ২০১২ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানির চার পরিচালকের জরিমানা করে। পরিচালকরা হলেন- কাজী সালেমুল হক, সালমা হক, কাজী এম সারোয়ার সালমান এবং সারা হক।

আপত্তির মুখে বিএসইসি পরে জরিমানা কমিয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করলেও এই অর্থ দিতে নারাজ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। পরে জরিমানা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে রিট করেন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালতে গিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে রিট করেন, যা এখনো চলমান রয়েছে।

একইসঙ্গে ‘ইকোনো কামাল’ হিসেবে পরিচিত জিকিউ গ্রুপের মালিক কাজী সালিমুল হক কামাল মাগুরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ তারও কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড করছেন আদালত।

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ৬ মার্চ আপিল করেছেন মাগুরার সাবেক এই সংসদ সদস্য। পরদিন ৭ মার্চ ইকোনো কামালের আপিল শুনানি ও তার বিরুদ্ধে দেয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

২০১২ সালে করা রিটের আজো সুরাহা না হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কোম্পানির দূরত্ত্ব বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। যে কারণে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ব্যবসা সম্প্রসারণে রাইট আবেদন করলেও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রাজনীতিক বিচেনায় রেখেছে বলে মনে করেন শেয়ার ডিভিশনের ইনচার্য ইসলাম।

জরিমানা প্রদান ও আবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোম্পানির শেয়ার ডিভিশনের ইনচার্য ইসলাম বলেন, আমরা রাইটের জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি, কমিশন অনুমোদন দেবে। তবে আমরা ভিন্ন ধারার রাজনীতি করায় আমাদের হয়রানী করা হচ্ছে। জরিমানা মওকুফ নিয়ে আদালতে চলমান রিট এবং কোম্পানির আইনজীবীর ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং প্রেস কাউন্সিলে এই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন বলে জানান।

আরো তথ্য জানতে কোম্পানির সেক্রেটারি উজ্জ্বল কুমার ধরের মুঠোফোনে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কোম্পানির সিএফও শাজাহান সিরাজ বর্তমান ব্যবসা নিয়ে সন্তোস প্রকাশ করেন। কোম্পানির ব্যবসায়িক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি রোববার এ প্রতিবেদককে ‘স্থিতিশীল’ বলে সংক্ষেপে মন্তব্য করেন।

জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাইট শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাধারণ সভায় (এজিএম) তা অনুমোদন করা হয়েছে। প্রথম দিকে প্রিমিয়ামসহ রাইট আবেদন করা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধণ করে গত বছরে প্রিমিয়াম ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবার আবেদন করা হয়।

এরপরে গত বছরের আগস্টে ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে দুইটি শেয়ারের বিপরীতে ৩টি রাইট শেয়ার ইস্যুর জন্য আবেদন করেছে কোম্পানিটি। একই সময়ে ৫টি কোম্পানি রাইটের আবেদন করে। তার মধ্যে জাহিন স্পিনিং লিমিটেড গত সপ্তাহে একটি শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে।

বিবিধ খাতের কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাইট শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ২০১৩ সালে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১:১.৫০ অর্থাৎ একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১.৫টি রাইট শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১৯৮১ সালে শুরু হওয়া জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবসা পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। যে কারণে কোম্পানির দীর্ঘ সময়ের ঐতিহ্যগত ইপিএস বৃদ্ধির ধারা অব্যহত রাখতে পারেনি। ভালো ব্যবসা করতে না পারায় গ্রুপের অনেক কোম্পানি বন্ধ রয়েছে।

রাজধানীর বড় মগবাজারে কোম্পানির কার্যালয়েও নেই আগের মতো কর্তা ও কর্মীদের সেই সবর উপস্থিতি। কমেছে জনবল এবং কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here