জিএসপি স্থগিত হলেও প্লাস্টিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না

0
317

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত করা হলেও প্লাস্টিক শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এই পণ্যের রফতানিতে। কারণ বাংলাদেশের মোট প্লাস্টিক পণ্য রফতানির এক শতাংশেরও কম হয় দেশটির বাজারে। গত অর্থবছরে দেশটিতে মাত্র ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার মূল্যের প্লাস্টিক পণ্য রফতানি হয়।
তবে জিএসপি স্থগিতের কারণে ওই দেশের বাজারে রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা একটু ব্যাহত হবে। একক বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনেক বড়। দেশটিতে এ পণ্যের প্রধান রফতানিকারক চীন। কিন্তু বেশ কিছু ইস্যুতে চীনের প্রতি নাখোশ যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে চীনের প্লাস্টিকের পুতুল রফতানির ওপর এন্টি ডাম্পিং নামের বর্ধিত শুল্ক বসানো হয়েছে। অন্যান্য পণ্যেও এমনতি হতে পারে। সেটি হলে অন্য রফতানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের নীতি সহায়তা পাওয়া গেলে সে সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
এ শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, বিশ্বের ২৩টি দেশে প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।এ পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ওখানে বাজারের ব্যাপ্তি দিন দিন বাড়ছে। এ খাতের রফতানি পণ্যের মধ্য রয়েছে- সব ধরনের প্লাস্টিক ব্যাগ, ইউপিভিসি পাইপ, প্লাস্টিকের হ্যাঙ্গার, দড়ি প্রভৃতি। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, গত অর্থবছরে এ খাতে রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। এ খাতে বছরে রফতানির প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। আগামী তিন বছরে রফতানি আয় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা।বহির্বিশ্বে চীন বিরোধী মনোভাব প্লাস্টিক পণ্যের বহুমুখীকরণের সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোটার্স এ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা সবেমাত্র মার্কিন বাজারে প্রবেশ করেছিলাম। এটি আমাদের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি বাজার। জিএসপির সুবিধা স্থগিতের কারণে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো একটু কঠিন হয়ে পড়বে। জিএসপি না থাকায় এখন আমাদের শুল্ক দিয়ে পণ্য রফতানি করতে হবে। এতে অন্যান্য বড় প্রতিযোগী- চীন, ভারত ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা কিছুটা কমে যাবে।

তিনি বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণে আমরা প্লাস্টিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন অবস্থায় বাজার ধরে রাখতে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্যান্য দেশ তার অভ্যন্তরে কর অবকাশ সুবিধা দিলেও দেশে প্লাস্টিক শিল্পে এ সুবিধা দেয়া হয় না। তাছায়াও বন্ডের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এই শিল্প।কাজী আনোয়ারুল হক বলেন, আমাদের প্লাস্টিক পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার ইইউ। যদি তারাও যুক্তরাষ্ট্রের পথে চলে তাহলে আমাদের ব্যাপক সমস্যা হবে।এফএইচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহেদ বলেন, জিএসপি প্রত্যাহার মার্কিন বাজারে প্লাস্টিক রফতানিতে কোন প্রভাবই ফেলবে না।সমস্যা উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে বিপিজিএমইএ’র সাধারণ সম্পাদক কেএম ইকবাল বলেন, আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিনিয়োগ মিয়ানমারসহ আন্যান্য অঞ্চলে চলে যাবে।