জানুয়ারিতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে

0
713
রিসাইকেলিং ইন্টারন্যাশনাল : অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছর ছিল কমতির দিকে। শীর্ষ উৎপাদক দেশ চীনের অর্থনৈতিক ধীর গতির হলে পণ্যটির উৎপাদন হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথম মাসেও বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৬৬টি ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশে গত মাসে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮০ লাখ টনে। এর পরিমাণ ২০১৫ সালের একই সময়ে ছিল ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৮ হাজার টন। অর্থাত্ ২০১৫ সালের জানুয়ারির চেয়ে গত মাসে বৈশ্বিক ইস্পাত উত্পাদন কমেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

ISPAT..অ্যাসোসিয়েশন জানায়, চলতি বছরের প্রথম মাসে পণ্যটির উত্পাদন সক্ষমতা ২০১৫ সালের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। যদিও ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তা দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা হ্রাসের হার ছিল ৭০ শতাংশের সামান্য নিচে। তবে ট্যারিফ মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসায় বৈশ্বিক আমদানি চাহিদা বেড়েছে। ফলে পণ্যটির উত্পাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে দেশটি।

ডব্লিউএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ লাখ টন ইস্পাত উত্পাদন করে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এর চেয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি ইস্পাত উত্পাদন হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী উত্পাদিত ইস্পাতের অর্ধেক উত্পাদন করে থাকে চীন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে উত্পাদন হয়েছে ৬ কোটি ৩২ লাখ টন ইস্পাত। এর পরিমাণ ২০১৫ সালের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম। চীনে চাহিদা মন্দার কারণে দেশটির অনেক ইস্পাত কারখানা লোকসানে রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের কারণে দেশটির ইস্পাত উৎপাদকরা লোকসান এড়াতে পণ্যটি রফতানিতে ঝুঁকছেন।

চীনের পাশাপাশি এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও গত মাসে ইস্পাত উৎপাদন কমেছে। এশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ জাপান।

অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে জাপানে ৮৮ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উত্পাদন হয়। ২০১৫ সালের একই সময়ে এর চেয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি উৎপাদন হয়েছিল। এশিয়ার তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ ভারত।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে পণ্যটির উত্পাদন দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ কম। দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মাসে উৎপাদন হয়েছে ৫৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত। ২০১৫ সালের একই সময়ে এর চেয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি উত্পাদন হয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত ইস্পাত উত্পাদন হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ কমে জার্মানিতে উৎপাদন হয়েছে ৩৬ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত।

অন্যদিকে একই সময়ের ব্যবধানে ইতালিতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ১৮ লাখ টনে। এছাড়া ইইউভুক্ত স্পেনে চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্পাদন হয়েছে ১২ লাখ টন ইস্পাত। ২০১৫ সালের প্রথম মাসে এর চেয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল।

অন্যদিকে গত মাসে শুধু তুরস্ক ও ইউক্রেনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের প্রথম মাসে তুরস্কে ২৬ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উত্পাদনের কথা জানিয়েছে। এর পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ইউক্রেনে গত মাসে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে উত্পাদন হয় ১৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় ৫৬ এবং ব্রাজিলে ২৫ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উত্পাদন হয়েছে। ২০১৫ সালের একই সময়ের চেয়ে দেশ দুটিতে পণ্যটির উত্পাদন কমেছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬ ও ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here