জমি কেনার আর অনুমোদন দিচ্ছে না আইডিআরএ

0
368

স্টাফ রিপোর্টার : বীমা খাতের ২০টির মতো প্রতিষ্ঠানের জমি ও অফিস স্পেস কেনার আবেদন ছয় মাস ধরে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে জমা পড়ে আছে। তবে নতুন করে কোনো বীমা কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের অনুমোদন দিচ্ছে না নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

আইডিআরএ সূত্র জানায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বীমা খাতের বিনিয়োগ বিধিমালা। যেখানে জমি বা আবাসন খাতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বিনিয়োগে বিধিনিষেধ দেয়া আছে। পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের পরই বিধিটি চূড়ান্ত হবে। তাই এ সময়ের আগে নতুন করে জমি বা অফিস স্পেস কেনার অনুমোদন দেয়া হবে না কোম্পানিগুলোকে।

এ বিষয়ে আইডিআরএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গকুল চাঁদ দাস বলেন, জমি বা অফিস স্পেস ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিধান রয়েছে। বর্তমানে এ সংস্থাটি লোকবল সংকটে রয়েছে। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ কর্তৃপক্ষ গঠনের পরই জমি বা অফিস স্পেস ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হবে।

এদিকে নতুন করে জমি কেনার অনুমোদন না দিলেও স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাজারমূল্য যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়ে গত ২১ মার্চ বীমা কোম্পানিগুলোকে এ-সংশ্লিষ্ট একটি চিঠি দেয় আইডিআরএ।

জানা যায়, জমি ক্রয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, প্রাইম লাইফ ও পদ্মা ইসলামী লাইফসহ বেশকিছু কোম্পানির অনিয়ম এর আগে চিহ্নিত করেছে আইডিআরএ। কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরও সারা দেশে বীমা কোম্পানিগুলো একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। বিনিয়োগ করা হচ্ছে গ্রাহকের প্রিমিয়ামের অর্থ। এ বিনিয়োগ একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে মুনাফার পুরোটাই ভোগ করছেন কোম্পানির পরিচালকরা। এতেই চিন্তিত হয়ে পড়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

আইডিআরএ সূত্র জানায়, ডেল্টা, ন্যাশনাল, ফারইস্ট, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানি রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এর পর তা ভাড়া দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যালয় হিসেবে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ট্রেস টেস্টিং রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ চারটি খাতের অন্যতম একটি আবাসন।

আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, আইনগতভাবে এ সম্পদের মালিক বীমাগ্রহীতারা। কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক বা বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই এর অংশীদার নন। কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়ন করার উদ্দেশ্যে এক্ষেত্রে সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করে তার তথ্য দেয়া হচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের অতিমূল্যায়ন পৌঁছে চরমে। বছরের শেষ দিকে এবং ২০০৭ সালজুড়েই পড়তে থাকে দাম। ২০০৮-এর ডিসেম্বরে এসে নামে চূড়ান্ত ধস। এর ধাক্কা লাগে ব্যাংক, বীমা থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশ্ব অর্থনীতির এ অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে জমিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত করে। অথচ বীমা কোম্পানিগুলো ঠিকই জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমরা বরাবরই বীমাগ্রহীতাদের অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে নিরুত্সাহিত করে আসছি। বর্তমানে দেশে আবাসনের চাহিদা বেড়েছে। তাই অনেকেই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে এসব ক্ষেত্রে ধীরেসুস্থে এগোলে ঝুঁকি থাকে না।

এ বিষয়ে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জালালুল আজীম বলেন, ভারতের বীমা কোম্পানিগুলো আবাসন খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে, মুনাফাও করছে ভালো। অথচ আমাদের এখানে আবাসন খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে রয়েছে বিধিনিষেধ। বীমা খাতের স্বার্থেই আবাসন খাতে বিনিয়োগের প্রক্রিয়াটি সহজ করা উচিত ।

জানা যায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের রয়েছে রাজধানীর প্রেস ক্লাব মোড়ে ৩১ শতক জমির ওপর ২০ তলা ভবন। কোম্পানিটি ফেনী, সিলেট, রংপুর ও রাজশাহীতে জমি কিনেছে। শিগগিরই এসব জমিতে অনুমোদন অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স সাড়ে ২৭ কাঠা জমি কিনেছে রাজধানীর পান্থপথে। এছাড়া বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ফেনী ও কক্সবাজারেও জমি রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো সতর্কতার সঙ্গে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। অবশ্যই তা ঝুঁকি নিয়ে নয়।

ঢাকার বাংলামোটরে ১৬ কাঠা জমির ওপর ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করেছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। চট্টগ্রাম ও জামালপুরেও ফ্ল্যাট কিনেছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি সিলেটে চার, বগুড়ায় দুই, দাউদকান্দিতে চার, কুমিল্লায় এক ও লক্ষ্মীপুরে এক বিঘা জমি কিনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া কন্টিনেন্টাল, পিপলস, মেঘনা লাইফ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সসহ বীমা খাতের প্রায় প্রতিটি কোম্পানিই কমবেশি জমি কিনে ভবন নির্মাণ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here