জমিতে নিষেধাজ্ঞা, তবে সম্পদ কিনতে পারবে ডিএসই

0
311

স্টাফ রিপোর্টার : স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণের (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন) আগে সম্পদ ও অর্জন হিসেবে কিছু যন্ত্রাংশ ও উপকরণ কিনতে পারবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আগে কোনো ধরনের জমি ক্রয় করতে পারবে না বলে ডিএসইর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি বিএসইসির এক কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর ফলে ডিএসইর জমি ক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলো।

এর আগে গত ৬ জুন ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব ধরনের সম্পদ ও সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিএসইসি। স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। দ্য এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন অ্যাক্ট-২০১৩ এর ধারা ২৪ অনুসারে এ নির্দেশনা ইস্যু করা হয়।

পরবর্তীতে গত ১০ জুন বিএসইসির কাছে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আগে সম্পদ হিসেবে কিছু যন্ত্রাংশ ও উপকরণ কেনার প্রস্তাব দেয় ডিএসই। একই সঙ্গে রাজধানীতে জমি কেনার বিষয়ে বিএসইসির যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা থেকে অব্যাহতি চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ডিএসইর প্রস্তাবের ১ ও ২ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনাকৃত সম্পদ ও অর্জনের বিষয়ে অনুমতি দেয় বিএসইসি। কিন্তু ৩ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত জমি ক্রয় সংক্রান্ত প্রস্তাব নামঞ্জুর করা হয়। এ বিষয়ে কমিশনের এসআরএমআইসি বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ নং অনুচ্ছেদে যেসব যন্ত্রাংশ ও উপকরণ কেনার অনুমতি দেয়া হয়েছে তা হলো- কম্পিউটার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, এয়ার-কন্ডিশনার, ফার্নিচার, কোনো স্থানে লাগানো বা আটকানোর বস্তু (কোচান), মোবাইল সেট, ক্যালকুলেটর, বৈদ্যুতিক ও দাপ্তরিক যন্ত্রাংশ যা প্রতি দিনের কাজে ব্যবহার হয়।

এছাড়া ২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত নিকুঞ্জে নির্মাণাধীন নতুন ভবন ডিএসই টাওয়ারের লিফট সংযোজন, সেন্ট্রাল এয়ার-কন্ডিশন সিস্টেম, সাব-স্টেশন ও জেনারেটর কেনার অনুমতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডিএসইর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আগে সম্পদ হিসেবে কিছু যন্ত্রাংশ ও উপকরণ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত এসব উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সম্পদের মধ্যে পরে। তাই এ অনুমতি দেয়া হয়। তবে জমি যেহেতু স্থায়ী সম্পত্তির মধ্যে পরে তাই এটা কেনার বিষয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা অব্যাহতির অবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএসই রাজধানীতে ২০০ কোটি টাকার জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে দরপত্র দাখিল করা ৬ প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকও করে ডিএসই। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বারিধারার ১০ বিঘা জমি কেনার বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে এ সংক্রান্ত ডিএসইর কমিটি। তবে এই ১০ বিঘার মধ্যে ৬ বিঘা জমি নিঃষ্কন্টক হলেও বাকি ৪ বিঘা জমির কাগজপত্র স্বচ্ছ নয় বলে ওই কমিটি জানতে পারে।

পরবর্তীতে বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ প্রতি কাঠা জমির মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা দাবি করলেও ডিএসই কর্তৃপক্ষ কাঠা প্রতি ১ কোটি টাকা করে দিতে সম্মত হয়। সে হিসাবে ১০ বিঘার দাম পড়বে ২০০ কোটি টাকা। তবে এ ক্ষেত্রে নিঃষ্কন্টক ৬ বিঘা জমিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। বাকি ৪ বিঘার জন্য রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ অন্য এলাকায় জমি খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের আগে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বিধায় নতুন জমি কেনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিএসইসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here