‘জাঙ্ক ধরা শেয়ারে’ নতুন বছরে ‘জুজুর ভয়’

0
3038

সিনিয়র রিপোর্টার : যা বাড়ছে, বেশিরভাগ কোম্পানির জাঙ্ক ধরা শেয়ার দর। যে কারণে আমাদের জুজুর ভয় থাকেই। আমাদের ভেতর সম্ভাবনা সব সময় থাকে, অন্যদিকে আশঙ্কাও কাজ করে।

কারণ, ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তেমন উত্থান নেই। তবে এখন ক্যাটাগিরি ভিত্তিক অনেক কোম্পানি বেশ ভালো করছে। যে চিত্র ২০১০ বা ২০১২ সালে দেখা যায়নি।

MAHMUDUL HASAN 5
মো. মাহমুদুল হাসান

হযরত আমানাত শাহ্ সিকিউরিটিজের এ্যাসিসট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট (এভিপি) মো. মাহমুদুল হাসান এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন বছরের সম্ভাবনা এবং আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে মাহমুদুল হাসান স্টক বাংলাদেশকে বলেন, জাঙ্ক ধরা কিছু কোম্পানির শেয়ার দরে ভালো করছে। তাদের দিয়ে বা সে সব কোম্পানির দিকে তাকিয়ে বাজার মূল্যায়ন করা যাবেনা। দেখেন, ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিগুলোর কি অবস্থা? সেগুলো কি খুব ভালো করেছে, তা করেনি।

ভালো নয়; মন্দের ভালো বলা যায়। তবে ভালো করেছে জাঙ্ক ধরা কিছু কোম্পানি। যা, বেশির ভাগ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি। এসব কোম্পানির বাজার দরে কি আপনি বর্তমান বাজার মূল্যায়ন করবেন? তবে এক অর্থে বলা যায়, বাজার অনেক ভালো হয়েছে এবং ভালো করছে।

সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকরা যদি এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে এগিয়ে আসেন, তবে আরো ভালো করবে। নতুন বছরে নতুন কিছুতে আমরা আশাবাদী। এখানে বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের বিখ্যাত একটি বক্তব্য দেয়া প্রয়োজন। তা হলো- ‘শঙ্কিত হও-সবাই যখন আশাবাদী, সাহসী হও-সবাই যখন ভীত সন্ত্রস্ত’।

পুঁজিবাজারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে মাহমুদুল হাসান বলেন, জাঙ্ক ধরা কোম্পানির বিচরণ বাজারে সব সময় থাকে। ২০১০ বা ২০১২ সালেও এসব কোম্পানির উত্থান বড় পর্যায়ে ছিল। এবারেও রয়েছে, তবে তা ভিন্ন চিত্র। মজার ব্যাপার হলো- এবারে উত্থান হচ্ছে সেক্টর ভিত্তিক। কয়েকদিন আগে ছিল টেক্সটাইল খাত, এরপরে এলো পাওয়ার সেক্টর। এরপরে বর্তমানে আর্থিক সেক্টরটা বেশ ভালো করছে।

যে ঘূর্ণায়মান প্রবৃদ্ধি দেখছি, আমরা প্রচণ্ড আশাবাদী। বাজার আরো ভালো হবে। তবে খারাপ হওয়ার সামান্য কিছু কারণর আছে। তা হলো- আমাদের জুজুর ভয় থাকেই। বিশেষ কোন কারণ নেই অথচ ভয়।

সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সারা দেশে উন্নয়ন মেলা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ২২টি জেলায় মেলা হবে। নরসিংদীতে আমাদের একটি শাখা অফিস রয়েছে। ডিএসই ইতোমধ্যে আমাদের মেলার প্রস্তুতি নিতে চিঠিও দিয়েছে।

মেলায় মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে আমাদের ভয় কাটানোর উদ্দেশ্যই আসল। ভয় কাটাতে পারলেই সাফল্য শতভাগ নিশ্চিত। আস্থার স্থলটা আমাদের আগে পোক্ত করতে হবে।

মেলা, এটা হচ্ছে সাপোর্ট লেভেল। এই লেভেল তৈরি হলে পুঁজিবাজারকে আর ধাক্কা দিয়ে চালাতে হবে না। সে নিজ গতিতেই চলবে। সেই স্থানটা তৈরি হতে যাচ্ছে। কমিশন এবং ডিএসই-সিএসই এ ব্যাপারে অনেক কাজও করেছে। তারা ইতোমধ্যে আরো সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ঘোষণা করেছে। এজন্য নাটিকা, বিজ্ঞাপন বা প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হলে সাপোর্ট লেভেলটা থাকবে শেকড়ে। এসব নির্মাণে কমিশন ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।

MAHMUDUL HASAN. 6
মো. মাহমুদুল হাসান

নতুনদের আহ্বান করে মাহমুদুল বলেন, এখন যারা বাজারে আসবে, শিখে-পড়ে আসেবে। ২০১২ সালের সেই পান দোকানী আসলেও তাকে জেনে-বুঝে আসতে হবে। সেই পদ্ধতির গোড়াপত্তন অবশ্যই বাজারের নিজস্ব শক্তি। তখন আর ধাক্কা দিয়ে চালাতে হবে না।

ব্যয় সংকোচন নীতিতে অনেক হাউসে কর্মী ছাটাই এবং আয় বৃদ্ধিতে কর্মী নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন বছরে বাজার আরো ভালো হলে সিকিউরিটিজ হাউসগুলোর আয় আরো বাড়বে। পরিচালনা পর্ষদে নতুন কর্মপরিকল্পনাও আসবে।

ব্যয় সংকোচন করতে অনেক হাউস কর্মী ছাটাই করেছে ঠিক, দীর্ঘ সময় পরে তারা নতুন করে কর্মী নিয়োগও দেবে। যদিও আমানত শাহ্ গ্রুপ কোন কর্মী ছাটাই করেনি। ব্যয় সংকোচন করতে কর্মী ছাটাই নীতিতে আমানাত গ্রুপ বিশ্বাসী নয়।

আইপিও আবেদনের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ হাউসগুলোর ব্যয় কমিয়ে আয়ের পথ বাড়িয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ কমিশন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রণোদনা এবং আইপিওতে আসার প্রক্রিয়াও তৈরি করে দিয়েছে কমিশন। নতুন বছরে এমন আরো নতুন কিছু প্রক্রিয়ার যোগ হলে সিকিউরিটিজ হাউসগুলো সাফল্যের সঙ্গে টিকে থাকতে পারবে বলে জানান তিনি।

ইতোমধ্যে হাউসগুলোতে ট্রেডারের পরিমাণ বেড়েছে। পুরনো ট্রেডাররাও ফিরছেন।

হযরত আমানাত শাহ্ সিকিউরিটিজের হাউসের পলিসি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ট্রেডারদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করি। বিগ ভলিউমে ট্রেডারদের বিশেষ কমিশন সুবিধা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং চেক লেনদেনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কারো অভিযোগ থাকলে জবাবদিহিতার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমাধানের কথাও বলেন এভিপি।

NO COMMENTS