চিনি উৎপাদনে শীর্ষ ১০টি দেশ

0
1108

চলতি মৌসুমে বিশ্বে ১৭ কোটি ১০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। এর মধ্যে ১২ কোটি ৮৪ লাখ টন চিনি উৎপাদন করবে শীর্ষ ১০টি উৎপাদক দেশ। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিল ও অন্যতম উৎপাদক অঞ্চল ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিত্যপণ্যটির উৎপাদন বাড়বে।

অন্যদিকে কমবে দ্বিতীয় বৃহত্ উৎপাদক দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডে। চলতি মৌসুমে বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেশি থাকবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। তা সত্ত্বেও এ সময়ে বাড়বে পণ্যটির ব্যবহার। ২০১৬-১৭ মৌসুমে বিশ্বে ১৭ কোটি ৪০ লাখ টন চিনি ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একনজরে দেখে নেয়া যাক শীর্ষ ১০ উৎপাদক দেশে নিত্যপণ্যটি উৎপাদনের চিত্র।

ব্রাজিল: চলতি মৌসুমে ব্রাজিলে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার চিনি উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে ৩১ লাখ টন বাড়তে পারে। এ মৌসুমে ব্রাজিল মোট ২ কোটি ৭১ লাখ টন চিনি রফতানি করতে পারে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে ২৮ লাখ টন বেশি।

ভারত: চলতি মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদন প্রায় ৩৬ লাখ টন কমতে পারে। এ মৌসুমে দেশটিতে নিত্যপণ্যটির উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৩৯ লাখ টনে। চিনি উৎপাদনে ভারতের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। তবে দেশটিতে পণ্যটির ব্যবহার উৎপাদনের তুলনায় বেশি। চলতি মৌসুমে ভারতে ২ কোটি ৭২ লাখ টন চিনি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ): ইউরোপীয় জোটভুক্ত দেশগুলোয় চলতি মৌসুমে ১ কোটি ৬২ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ১৯ লাখ টন বেশি। ভারতের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নেও নিত্যপণ্যটি উৎপাদনের তুলনায় ব্যবহারের পরিমাণ বেশি। এ মৌসুমে ইউরোপের দেশগুলো মোট ১ কোটি ৮৮ লাখ টন চিনি ব্যবহার করতে পারে।

চীন: চলতি মৌসুমে ৭ লাখ টন বেড়ে বিশ্বের শীর্ষ জনসংখ্যার দেশ চীনে চিনি উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৯৫ লাখ টনে। চলতি মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির আবাদ বেড়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই বাড়ানো হয়েছে উৎপাদনের পরিমাণ।

থাইল্যান্ড: চলতি মৌসুমে দেশটিতে ৯৩ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টন কম। চলতি মৌসুমে আবাদ কম হওয়ায় দেশটিতে নিত্যপণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র: ২০১৫-১৬ মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে চিনি উৎপাদন ৩ লাখ টন বাড়বে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে দেশটিতে ৮৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় এ মৌসুমে প্রায় ৬ লাখ টন চিনি কম আমদানি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

মেক্সিকো: আগের মৌসুমের তুলনায় সামান্য বেড়ে চলতি মৌসুমে মেক্সিকোয় ৬৭ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। একই সময়ে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি বাড়তে পারে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

পাকিস্তান: ৪ লাখ ৬০ হাজার টন বেড়ে চলতি মৌসুমে পাকিস্তানে চিনি উৎপাদন হতে পারে ৫৭ লাখ টন। বাড়তি আবাদে চলতি মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বাড়তে পারে।

রাশিয়া: চলতি মৌসুমে রাশিয়ায় চিনি উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৪ লাখ টন। মোট চিনি উৎপাদন হতে পারে ৫৬ লাখ টন। উৎপাদনের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে বাড়তে পারে দেশটিতে পণ্যটির ব্যবহার।

অস্ট্রেলিয়া: চলতি মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায়ও বাড়বে চিনি উৎপাদন। আগের মৌসুমের তুলনায় ২ লাখ টন বেড়ে এবার মোট ৫১ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে দেশটিতে। উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়তে পারে পণ্যটির রফতানিও।

  • সূত্র : ইউএসডিএ