চাপের মুখে ডেসকো, মুনাফায় ধস!

0
845

সিনিয়র রিপোর্টার : ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) খুচরা মূল্যের তুলনায় পাইকারি (বাল্ক) পর্যায়ে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি হুইলিং (সঞ্চালন) চার্জ বৃদ্ধি, ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে সুদ বাবদ আয় কমে যাওয়া ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ায় সর্বশেষ হিসাব বছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ মুনাফা কমেছে কোম্পানির।

যদিও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ব্যবসার আকার বেড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিটির।

কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, ডেসকোর পরিচালনা পর্ষদের সভায় সম্প্রতি নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়।

desko...পর্ষদে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ও হুইলিং চার্জ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কারণে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় ও উত্পাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ফলে হিসাব বছর শেষে কোম্পানির টার্নওভার বাড়লেও নিট মুনাফা কমেছে। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১২ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৪ টাকা ৩২ পয়সা।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সরকার পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ায়। এ সময় আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণীর গ্রাহকভেদে ডেসকোর বিদ্যুতের মূল্য দশমিক ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানো হয়। এর মধ্যে আবাসিকে সর্বোচ্চ ৭৫ ইউনিট বিদ্যুত্ ব্যবহারকারীর জন্য ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এর বাইরে আবাসিকের অন্যান্য গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৮৭ ও শিল্পে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়।

বিপরীতে ডেসকোকে পাইকারি পর্যায়ে ৬ দশমিক ৭৬ থেকে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। এ সময় বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ আগের চেয়ে ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে বছর শেষে রেভিনিউ বাড়লেও মুনাফা কমেছে ডেসকোর।

কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ব্যবহার ও দাম বাড়ায় ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ডেসকোর রেভিনিউ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানির মোট রেভিনিউ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা, আগের বছর যা ছিল ২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। তবে সঞ্চালন চার্জসহ বিদ্যুত্ কেনায় খরচ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির কারণে কোম্পানির মুনাফা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

সর্বশেষ হিসাব বছরে ডেসকোর নিট মুনাফা হয় ৪৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আগের বছর যা ছিল ১৬৫ কোটি টাকা। বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় ৭৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ১ টাকা ১২ পয়সায় নেমে এসেছে। ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৩৪ টাকা ১৬ পয়সা। শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদপ্রবাহ ছিল ৮ টাকা ২৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৮ টাকা ২৭ পয়সা।

ডেসকোর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ায় চলতি বছর কোম্পানির রেভিনিউ বেড়েছে। তবে খুচরা মূল্যের তুলনায় পাইকারি (বাল্ক) পর্যায়ে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ও হুইলিং (সঞ্চালন) চার্জ বাড়ার কারণে রেভিনিউর বিপরীতে মুনাফা কমেছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাসহ প্রশাসনিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকে রাখা আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় কোম্পানির মুনাফায় প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে ডেসকোর পরিচালনা পর্ষদ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য বিষয় অনুমোদনে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে পিএসসি কনভেনশন হলে সকাল ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে কোম্পানিটি। এজন্য আগামী ১৭ নভেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৪-১৫ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ডেসকো।

২০০৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ডেসকোর অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি টাকা। রিজার্ভ রয়েছে ৮৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪।

এর মধ্যে সরকারের কাছে ৭৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে দশমিক ৫৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here