চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ‘ডিজিটাল’ আইপিও পদ্ধতি

0
2741

শাহীনুর ইসলাম : বিনিয়োগকারীদের আর দীর্ঘ লাইন ধরতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদনপত্র ও টাকা জমা নেওয়ার নতুন পদ্ধতি চলতি মাসেই চালু হতে পারে। যেকোনো দিন ব্যাংকে টাকা জমা না দেয়ার ঘোষণা আসতে পারে।

কেননা এপ্রিল মাসে পরীক্ষামূলকভাবে আইপিও আবেদনের নতুন পদ্ধতি চালুর কথা ছিল। গত মাসে না হলেও তা চলতি মে মাসে পূর্ণাঙ্গ রুপে চালু করতেই এই ঘোষণা দিতে পারে বলে বিশেষ একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) ৩০ মার্চ এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে (ডিজিটাল) আইপিও চাঁদা সংগ্রহের পদ্ধতি চূড়ান্ত করেছে। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বিএসইসির চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদ্ধতির পাইলট প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহী ব্রোকার হাউসের নাম জমা দিয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

সূত্র জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জের দেয়া নাম থেকে বাছাই করে ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে আইপিওর আবেদন ও টাকা জমা নেয়ার অনুমতি দেয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ হাউসকে অগ্রাধিকার পাবে। কারণ হিসেবে সূত্র বলছে, বড় হাইসগুলো বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়ে থাকে। যেহেতু এটি একটি নতুন পদ্ধতি তাই বিএসইসিও চায় অনেক বেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে।

এ মাসের শেষভাগে কোনো আইপিও অনুমোদন পেলে সেটির মাধ্যমে পদ্ধতিটির যাত্রা শুরু হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের জন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জের দেওয়া নাম থেকে বাছাই করে ১০ থেকে ১২ টি প্রতিষ্ঠানকে আইপিও’র আবেদন ও টাকা জমা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ হাউজকে অগ্রাধিকার পাবে।

কারণ হিসাবে সূত্র বলছে, বড় হাইজগুলো বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়ে থাকে। যেহেতু এটি একটি নতুন পদ্ধতি তাই বিএসইসিও চায় অনেক বেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে।

উল্লেখ, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিএসইসি নতুন পদ্ধতি চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ পদ্ধতি চালু করা হবে। এতে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধন করে সব কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।

বর্তমান পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার বেচতে আগ্রহী কোম্পানি কয়েকটি ব্যাংককে তাদের হয়ে আবেদনপত্র ও শেয়ারে টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়। এর বিনিময়ে তারা একটি কমিশন (জমাকৃত প্রতি ১০০ টাকায় ১০ পয়সা হিসেবে) পেয়ে থাকে। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে ব্যাংকের পরিবর্তে ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট বা ডিপি আবেদনপত্র জমা নেবে।

আর শেয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আগে থেকেই জমা থাকবে ডিপির কাছে। লটরিতে কোনো বিনিয়োগকারী কৃতকার্য হলেই ডিপি তার কাছে সংরক্ষিত অর্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির একাউন্টে জমা দেবে। ফলে অর্থ ফেরতের (রিফান্ড) কোনো জটিলতা থাকবে না। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা ঝামেলাহীণভাবে আইপিওর আবেদন করতে পারবেন। আর এ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময়ও লাগবে কম।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির কমিশনার আরিফ খান বলেন, পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিও’র আবেদন পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ পদ্ধতিতে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে আইপিও’র আবেদন ও টাকা জমা দিতে হবে না। নিজ নিজ ডিপির (ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট) মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে।

তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প চালুর জন্য আগ্রহী ব্রোকারজগুলোর নাম ইতোমধ্যে বিএসইসিতে এসেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে আমরা এ প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে পারি।

পেছনের খবর : মার্চে নয়, এপ্রিলে আইপিও সহজীকরণ প্রক্রিয়া

আরো খবর : ডিজিটাল হচ্ছে নতুন আইপিও পদ্ধতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here