চতুর্থবার বাড়লো আরএন স্পিনিংয়ের স্থগিতাদেশের মেয়াদ

0
1341
ডেস্ক রিপোর্ট : আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা-পরিচালকের শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর, বন্ধক ও উপহার দেওয়ার নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ চতুর্থ দফায় আরও ছয় মাস বাড়ান হয়েছে। অর্থাৎ পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত এ কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা শেয়ার লেনদেন ও হস্তান্তর করতে পারবেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রাইট শেয়ার নিয়ে জালিয়াতি করায় ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা-পরিচালকের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। একই সঙ্গে রাইট শেয়ার সংক্রান্ত দাখিল করা কাগজপত্র জাল হওয়ায় আরএন স্পিনিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির মামলা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এরই জবাবে চতুর্থবারের মতো বিএসইসির নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান হয়েছে।

গত ১০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে কমিশনের ৪১৫তম সভায় আরএন স্পিনিংকে ১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট শেয়ার ছেড়ে মূলধন বাড়ানোর অনুমতি দেয় বিএসইসি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানিটি ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৪১ হাজার ২৩০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে রাইট শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২৭৮ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এ কোম্পানির পরিচালকরা নিজ কোটায় রাইট শেয়ারের অর্থ জমা দিতে না পারায় বিএসইসি’র পক্ষ থেকে রাইটের আকার কমিয়ে ১২০ কোটি টাকা করতে বলা হয়।

এ ছাড়া টাকা জমা দিতে না পারার কারণে কোম্পানিকে ১০ লাখ টাকা, পরিচালক শিরিন ফারুককে ২৫ লাখ টাকা এবং কোম্পানির বাকি পরিচালকদের প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ কোম্পানির সচিবকে বরখাস্ত করা হয় এবং পরবর্তী ৫ বছর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিতে চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ ছাড়া ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিএসইসি। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাবে কোম্পানির রাইট শেয়ারের ২৭৮ কোটি টাকার জাল কাগজপত্র দাখিলের অভিযোগে ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর আরএন স্পিনিংয়ের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ মোট সাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে বিএসইসি।

পরবর্তী সময়ে রাইট শেয়ারের আকার কমানোর নির্দেশনা বিএসইসি’র আইনবর্হিভূত সিদ্ধান্ত মনে করায় কোম্পানির পক্ষ থেকে গত বছরের ১০ মার্চ উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। এতে ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ এর ২৬ (২) উপ-ধারা অনুযায়ী বিএসইসি’র গত ১৪ জানুয়ারির (শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা) সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানান হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বছরের ২০ জুন বিএসইসি’র বিরুদ্ধে ৪ (চার) সপ্তাহের রুল জারি করেন উচ্চ আদালত।

এতে আরএন স্পিনিংয়ের শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা কেন প্রত্যাহার করা হবে না তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে বিএসইসির জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রথমবারের মতো পরবর্তী ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি দ্বিতীয় বারের মতো, ২ জুন তৃতীয়বারের মতো এবং বুধবার ডিএসইতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী চতুর্থবারের মতো বিএসইসির নিষেধাজ্ঞা আরও ছয় মাস স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আরএন স্পিনিংয়ের পরিচালক ও অবলেখক শেয়ার সাবস্ক্রাইব করতে ব্যর্থ হয়। তবে কোম্পানিটির তিন পরিচালক শিরিন ফারুক, কিম জুং সুক ও এমএল ডায়িং সাবস্ক্রিপশন তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পর রাইট শেয়ারের টাকা জমা দেন। রাইট শেয়ারের জন্য অবলেখক ছিল এএএ কনসালট্যান্ট, বানকো ফিন্যান্স, বাংলাদেশ মিউচুয়াল সিকিউরিটিজ ও আলফা ক্যাপিট্যাল ম্যানেজমেন্ট। সব প্রতিষ্ঠানই রাইট শেয়ারের অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here