ঘোষণা দিলেও আইপিওর টাকা অব্যবহৃত ৬টি কোম্পানির

0
1342

সিনিয়র রিপোর্টার : চলতি ২০১৭ সালের মধ্যে আইপিওর প্রস্তাবিত প্রকল্পে উত্তোলিত টাকা টাকা ব্যয় করবে বলে ১২টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং রাইট শেয়ারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে ব্যবহার করা ঘোষণা দিলেও ৬টি কোম্পানি করেনি।

কোম্পানিগুলো ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে আইপিও এবং রাইট শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে এক হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছে। শুরুতে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো- ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে এই টাকা নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করা হবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিশ্রুতি অনুসারে মাত্র ৫টি কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে আইপিওর টাকা ব্যয় করেছে। এগুলো হলো- বিএসআরএম লিমিটেড, মতিন স্পিনিং মিলস, ইভেন্সি টেক্সটাইলস, তসরিফা ইন্ডাস্টিজ এবং ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। এ ছাড়াও রাইট শেয়ারের টাকা ব্যয় করেছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।

আইপিও ও রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ছয় কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫০৪ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। প্রসপেক্টাসে ঘোষণা দিলেও আজো ব্যবহার করেনি। কোম্পানিগুলো হলো- আমান ফিড, রিজেন্ট টেক্সটাইলস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শাশা ডেনিমস এবং ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড। এসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে আইপিও’র ১৭ থেকে ৯৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেনি।

এছাড়াও রাইট শেয়ার ছেড়ে বিপুল টাকা তুলে ব্যয় করেনি বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড।

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে আইপিও’র মাধ্যমে ৬০ কোটি টাকা তুলে নেয়। কথা ছিলো, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আইপিও’র সব অর্থ উপযুক্ত খাতে ব্যয় করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ১৭ কোটি ৭ লাখ ২হাজার ৭৯৪ টাকা ব্যয় করেনি। যা শতাংশের হিসাবে মোট অর্থের ২৮ শতাংশ।

টাকা এখন ব্যাংকে আমানত রেখে সুদ নিচ্ছে কোম্পানিটি। শুধু তাই নয়, নিজেদের দোষ ডাকতে কৌশলে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নতুন করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। একই অবস্থা বাকি ৫টি কোম্পানিরও।

শাশা ডেনিমস: ১৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে বস্ত্রখাতে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। কথা ছিলো ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইপিও’র সব অর্থ ব্যয় করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের ২৯ কোটি ৬৭ লাখ ৬ হাজার ১০৯ টাকা ব্যয় করেনি। যা শতাংশের হিসাবে ১৭ শতাংশ। বরং বিনিয়োগকারীদের টাকা ব্যাংকে রেখে সুদনিচ্ছে।

আমান ফিড লিমিটেড: ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আইপিও’র খরচ বাবদ ব্যয়সহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে ২০১৫ সালে পুঁজিবাজার থেকে ৭২ কোটি টাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানটি। কথা ছিলো, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এই টাকা ব্যয় করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও ১৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেনি।

ইয়াকিন পলিমার: তিনটি খাতে ব্যয়ের জন্য ২০১৬ সালে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানটি। কথা ছিলো, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই টাকা ব্যয় করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের ৪ কোটি ৪৩লাখ ৮৯ হাজার ১৮০ টাকা ব্যয় করেনি। যা শতাংশের হিসাবে মোট টাকার ২২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

রিজেন্ট টেক্সটাইলস: আধুনিকায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি কারখানা তৈরি করবে বলে পুঁজিবাজার থেকে ২০১৫ সালে ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। কথা ছিলো ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আইপিওর সব টাকা বিনিয়োগ করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মাত্র ৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। যা শতাংশের হিসাবে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বিডিথাই: রাইট শেয়ারের মাধ্যমে নয় খাতে ব্যয় করতে বিডি থাই ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ২৮০ টাকা উত্তোলন করে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১ হাজার ২৪০ টাকা ব্যয় করেছি। তবে এখনো ব্যয় করেনি ১১কোটি ৯৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৫ টাকা। শতাংশের হিসাবে যা মোট অর্থের ২২ দশমকি ৮২ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here