ঘোষণা ছাড়াই পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্সের শেয়ার বিক্রি

0
223

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ার বিক্রিতে পূর্বঘোষণার নিয়ম থাকলেও তা পরিপালন করেননি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক এটিএম রফিক। ব্যাংকো সিকিউরিটিজের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করলেও গ্রাহক হিসাবে উদ্যোক্তা পরিচালকের তথ্য গোপন ও আয়কর প্রদান না করার মতো অপরাধ করেছেন এ উদ্যোক্তা।

ফলে এটিএম রফিকের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন, লিস্টিং রেগুলেশন ও আয়কর অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ডিএসইর পর্যবেক্ষণ অনুসারে, এটিএম রফিক গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দেড় লাখ, ১১ অক্টোবর ৪০ হাজার ২০০ ও ১২ অক্টোবর ৫০ হাজার শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেন। সব মিলিয়ে ব্যাংকো সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার ২০০ শেয়ার শেয়ার বিক্রি করেন তিনি।

এরপর ৩১ অক্টোবর ডিএসইতে এ উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রির প্রতিবেদন জমা দেয় পদ্মা লাইফ। আর জমা দেয়া এ প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় লেনদেনে অনিয়ম খুঁজে পায় ডিএসই।

তদন্তে এটিএম রফিকের ঘোষিত ২ লাখ ৪০ হাজার ২০০ শেয়ারের বাইরে আরো পাঁচ হাজার শেয়ার ক্রয় ও পাঁচ হাজার শেয়ার বিক্রির তথ্য পায় ডিএসই।

অক্টোবরের ১১ তারিখে এ শেয়ার ক্রয় ও ৩০ তারিখে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩০ অক্টোবরের পাঁচ হাজার শেয়ার বিক্রির আদেশ জমা দেয়া হলেও ১১ তারিখের পাঁচ হাজার শেয়ার কেনার কোনো ক্রয়াদেশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফলে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ শেয়ার বিক্রি করে লিস্টিং রেগুলেশনসের বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মনে করছে ডিএসই। পাশাপাশি উদ্যোক্তা পরিচালকের তথ্য গোপন করে সিকিউরিটিজ আইনও ভঙ্গ করেছেন এ উদ্যোক্তা।

তদন্তে এ ঘটনা জন্য ব্যাংকো সিকিউরিটিজের দায় রয়েছে বলেও মনে করছে ডিএসই। গ্রাহক হিসেবে এটিএম রফিকের শেয়ার এর আগে লেনদেন করার পরও সর্বশেষ লেনদেনে উদ্যোক্তা পরিচালকের ঘোষণা ছাড়াই শেয়ার বিক্রির বিষয়ে ব্রোকারেজটির দায় রয়েছে।

জানা গেছে, শেয়ার বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে এ বছরের ৯ জানুয়ারি পদ্মা লাইফের উদ্যোক্তা পরিচালক এটিএম রফিক ও কোম্পানি সচিব মো. আবু সাইদ সরকারকে চিঠি দেয়া হয়। জবাবে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে বক্তব্য জানিয়ে চিঠি পাঠায় তারা।

চিঠিতে এটিএম রফিক জানান, শেয়ার বিক্রির বিষয়টি তিনি জানতেন না। ব্রোকারেজের ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রির বিষয়টি জানার পরই তার ওপর প্রযোজ্য ৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স পরিশোধ করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে এ বিষয়ে ব্যাংকো সিকিউরিটিজকেও ২৪ জানুয়ারি কারণ দর্শানোর চিঠি দেয় ডিএসই। ডিএসইর চিঠির জবাবে ব্যাংকো সিকিউরিটিজ ও এর অনুমোদিত প্রতিনিধি নিজের ভুল স্বীকার করেন। পাশাপাশি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

ডিএসই বলছে, তথ্য গোপন ও ঘোষণা ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে পদ্মা লাইফের উদ্যোক্তা পরিচালক এটিএম রফিক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর সেকশন ১৮ ও ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫-এর ৩৪(১) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। পাশাপাশি শেয়ার বিক্রির বিপরীতে কর পরিশোধ না করে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর সেকশন ৫৩(এম) লঙ্ঘন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে আদেশ অনুযায়ী শেয়ার লেনদেন না করার পাশাপাশি এক্ষেত্রে অদক্ষতার পরিচয় দিয়ে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০ (দ্বিতীয় তফসিল) এর আচরণবিধি ১ ও ২(২) লঙ্ঘন করেছেন ব্যাংকো সিকিউরিটিজ ও অনুমোদিত প্রতিনিধি মো. নুরুল ইসলাম।

ফলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে ডিএসই।

ঘোষণা ছাড়াই শেয়ার বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালক এটিএম রফিক বলেন, শেয়ার বিক্রির বিষয়টি আমার অজ্ঞাতসারেই হয়েছে। ব্যাংকো সিকিউরিটিজ ও এর অনুমোদিত প্রতিনিধির ভুলে লেনদেনের ঘটনাটি ঘটেছে।

বিষয়টি জানতে পেরে আমি কর পরিশোধ করে দিয়েছি। গ্রাহক হিসাবে উদ্যোক্তা পরিচালকের তথ্য না থাকার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব ব্রোকারেজ হাউজের। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে যেসব কাগজপত্র পাঠানো হয়, তাতে উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে আমার নাম উল্লেখ থাকে। অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে আইন লঙ্ঘন হওয়ায় কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here