ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ

0
408

সিনিয়র রিপোর্টার : ক্যাপটিভ পাওয়ারের জন্য নতুন গ্যাস সংযোগের অনুমোদন পেয়েছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। সম্প্রতি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ গ্যাস সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে। গ্যাসের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে এ খাতে কোম্পানির ব্যয় সাশ্রয় হবে।

পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে কোম্পানির উৎপাদন ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরা।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান জানান, গত বছরের অক্টোবরে কোম্পানির বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেয়ার পরই জেনারেটরের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্যাসের জন্য তিতাসের কাছে আবেদন করা হয়। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি গ্যাস সংযোগ অনুমোদন করে ডিমান্ড নোট ইস্যু করেছে তিতাস গ্যাস। প্রতি ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০০ ঘনফুট ও প্রতি মাসে ৭৬ হাজার ৩৩৩ ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হবে। সরবরাহকৃত গ্যাস কাজে লাগিয়ে ৯৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

দুই মাসের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে এতদিন জেনারেটর চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চাহিদামাফিক গ্যাস ব্যবহারের পরও কিছু পরিমাণ গ্যাস অব্যবহৃত থাকবে, যা ভবিষ্যতে কোম্পানির প্রয়োজন অনুসারে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

এদিকে শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি পরিশোধিত মূলধন ৪০ শতাংশ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। উচ্চ আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের বিদ্যমান পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের তিনটি করে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে কোম্পানিটি। ২৪ মে হতে যাওয়া বিলম্বিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিশেষ এজেন্ডা হিসেবে এ পরিকল্পনা উত্থাপন করা হবে। এজন্য নতুন রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হবে।

মূলধন কমানোর বিষয়ে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান বলেন, কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান সমন্বয়ের জন্য এছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। প্রতি বছর সঞ্চিতির মাধ্যমে লোকসান সমন্বয় করা হলে ১০ বছরেও কোম্পানির অবস্থা ভালো হবে না। পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদেরও লভ্যাংশ বঞ্চিত করতে হবে। তাই মূলধন কমানোর মাধ্যমে লোকসান সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অক্টোবর নতুন ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব নেয়ায় কারণে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে পারেনি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। তবে কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ মের মধ্যে এজিএম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ মে বেলা ১১টায় গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত মেঘের ছায়া কনভেনশন সেন্টারে এজিএম করবে কোম্পানি। সভার রেকর্ড ডেট ছিল ৩০ নভেম্বর।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্যও কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। গেল হিসাব বছরে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৭ পয়সা, আগের বছর যেখানে লোকসান ছিল ৪ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি ২৪ পয়সা লোকসান দেখানোর পর তৃতীয় প্রান্তিকে এসে শেয়ারপ্রতি ৪৩ পয়সা মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৯ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১১ টাকা ৫১ পয়সা।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে আসার আগে মুনাফায় থাকলেও ২০১৫ সাল থেকেই লোকসান দেখাচ্ছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। ম্যানেজমেন্টের দুই গ্রুপে দ্বন্দ্ব, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। সব সমস্যা সমাধান করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ভালো ফল উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অক্টোবরে দায়িত্ব নেয় নতুন পর্ষদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here