গ্ল্যাস্কোস্মিথের ভেতর-বাহির!

0
4014

রাহেল আহমেদ শানু : বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে) কারখানা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে আগামী ২৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। অন্যদিকে দেশের শীর্ষ আরেকটি ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বন্ধ কারখানা কিনছে।

১৯৬৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত কারখানা ইতোমধ্যে গ্ল্যাক্সোর কাছ থেকে কিনতে ইনসেপ্টার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র স্টক বাংলাদেশের কাছে বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া ছবি

সমঝোতা সম্পর্কে তথ্য জানতে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তেওগাঁ শিল্প এলাকার অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ‘অজ্ঞাত’ এবং সমঝোতা নিয়ে কিছু বলতে সম্মতি প্রকাশ করেননি।

এদিকে, গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সম্মেলনে ইউনিয়ন সভাপতি মো. ইলিয়াছ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আজম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। আগামী ২৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৫০জন শ্রমিককে জুন মাসে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের বিনা বেতনে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

১৯৬৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় স্থাপন করা হয়। শুরুতে লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠান হলেও সম্প্রতি লোকসান দিচ্ছে কোম্পানি। যে কারণে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।

গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় কমিয়ে আনা হয়। কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। উৎপাদিত অনেক ওষুধ গুদামজাত থাকলেও তা বাজারজাত করা হচ্ছে না।

গত চার বছরের বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, জিএসকে বিডির বিক্রি এক জায়গাতেই আটকে আছে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটির বিক্রি ছিল ৭১৮ কোটি টাকার বেশি। এরপর টানা দুই বছর তা কমে ৬২৮ কোটির ঘরে নেমে আসে। নানামুখী প্রচেষ্টায় গত বছর বিক্রি বাড়তে শুরু করলেও তা ৬৮০ কোটি টাকা ছাড়ায়নি।

বাংলাদেশে তাদের বার্ষিক বিক্রির ৭০ শতাংশের বেশি হেলথ ফুড ড্রিংকস হরলিকসের অবদান। বাল্কে আমদানি করা এ পণ্যে এখন তাদের বাজার শেয়ার ৯২ শতাংশেরও বেশি। ব্যবসার প্রবৃদ্ধিও মন্দ নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জিএসকে হেডকোয়ার্টার সেনসোডাইন উৎপাদক জয়েন্ট ভেঞ্চারের অবশিষ্ট ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার তাদের অংশীদার নোভারটিসের কাছ থেকে কিনে নিতে প্রায় ৯২০ কোটি পাউন্ডের তহবিল প্রস্তুত করছে। এ অর্থ জোগাতে হরলিকসসহ অন্যান্য হেলথ ফুড ড্রিংকস পণ্যের স্বত্ব বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করছে। ডিসেম্বরের আগেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here