গুজব ঠেকাতে ৫ প্রতিষ্ঠান সেবা দেবে

0
300

BSEC- 1স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে গুজব ঠেকাতে ৫ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে পারবে। এ জন্য বিনিয়োগ নিয়ে রিসার্চ অ্যানালাইসিস নীতিমালা ২০১৩ চূড়ান্ত হয়েছে। নীতিমালা অনুসারে ৫ ধরনের প্রতিষ্ঠান গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে।

এগুলো হচ্ছে- স্টক ডিলার বা ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ উপদেষ্টা অথবা কোনো রিসার্চ ফার্মের নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৪৮৭তম নিয়মিত সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। শিগগিরই নীতিমালাটি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হবে বলে জানায় বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

কোম্পানি ও বাজারে মৌলভিত্তি নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ধারণা সীমিত। ফলে আমাদের শেয়ারবাজারে গুজবনির্ভরতাই বেশি। এসব ক্ষেত্রে বাইরের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের দক্ষ পেশাজীবীদের রিসার্চ অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়তা করা হয়।

এ নীতিমালা প্রকাশের ফলে বাংলাদেশেও শেয়ারবাজার ও নির্দিষ্ট কোম্পানি প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবেন রিসার্চ অ্যানালিস্টরা। এতে বিভিন্ন শেয়ারের ক্রয়-বিক্রয়ের সুপারিশও করতে পারবেন। ফলে বিনিয়োগকারীর গুজবনির্ভরতা কমে আসবে।

নীতিমালা অনুসারে গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুতির আগে রিসার্চ অ্যানালিস্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেও গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্ততের জন্য যথাযথ তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুসারে পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠান গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে। এগুলো হলো- স্টক ডিলার বা ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ উপদেষ্টা অথবা কোনো রিসার্চ ফার্মের নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

রিসার্চ অ্যানালিস্ট কোনো শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় অথবা ধরে রাখার জন্য লিখিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে রিসার্চ অ্যানালিস্টের যোগ্যতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে উল্লেখ থাকতে হবে।

নীতিমালা অনুসারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আলাদা রিসার্চ টিম থাকবে, যা প্রধান গবেষকসহ তিন সদস্যের হতে হবে। স্বাধীন রিসার্চ ফার্মের ন্যূনতম তিনজন রিসার্চ অ্যানালিস্ট থাকতে হবে, যারা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

রিসার্চ অ্যানালিস্টদের যোগ্যতা সম্পর্কে বিএসইসির খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ), সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিপিএ), চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ), কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ), মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) অথবা ইকোনমিকস, অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা রিসার্চ অ্যানালিস্ট হতে পারবেন।

এছাড়া ন্যূনতম তিন বছরের শেয়ারবাজার সম্পৃক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রধান রিসার্চ অ্যানালিস্টের ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া অন্য বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলে পাশাপাশি শেয়ারবাজার নিয়ে বিদেশী ট্রেনিং ও শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত কোম্পানিতে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি রিসার্চ অ্যানালিস্ট হতে পারবেন।

যে কোম্পানির বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, ওই কোম্পানির সঙ্গে রিসার্চ অ্যানালিস্ট ও তার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে ১২ মাসের মধ্যে কোনো সম্পৃক্ততা থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে রিসার্চ অ্যানালিস্ট ও তার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ থাকালে তা প্রকাশ করতে হবে।

অ্যানালিস্ট ও তার প্রতিষ্ঠান রিসার্চ প্রতিবেদন প্রস্তুতের ৩০ দিন আগে ও প্রকাশের পর পাঁচ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শেয়ারের লেনদেন করতে পারবেন না। এছাড়া রিসার্চ ফার্ম যদি কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে ইস্যু ব্যবস্থাপক, সহকারী ইস্যু ব্যবস্থাক ও আন্ডার রাইটার হিসেবে কাজ করে, তবে আইপিও প্রস্তাবের দিন থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রিসার্চ অ্যানালিস্ট ফার্ম ওই কোম্পানির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে না।

অ্যানালিস্টদের বেতনা-ভাতা মার্চেন্ট ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে না। রিসার্চ অ্যানালিস্ট ফার্ম মার্চেন্ট ব্যাংকের মতো ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে না।

কোনো গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। যদি বাজারে কারসাজির করার জন্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, তবে সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে এজন্য শাস্তি দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here