গতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার

0
220

স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বিনিয়োগমুখী প্রবনতা। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাজার একটি গন্ডির মধ্য থেকে উঠানামা করলে ও গত দুই মাস ধরে ধীরে ধীরে গতিশীল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে এখন বিনিযোগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, বাজারে যারা বিনিয়োগ করবে তাদের অতি অল্প সময়ে মুনাফা তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সাধারণ বিনিয়োগকারীর মতো আচরণ পরিহার করতে হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার ভীত তৈরি করতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ বাজারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ক্রমাগত বাড়ছে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ। স্বাভাবিক কারেকশনের মাধ্যমে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতায় রয়েছে। বিশেষ করে লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেনি। তবে মে মাস থেকে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে শুরু করে। যারা এতোদিন সাইড লাইনে বসে ছিলেন তারাও ধীরে ধীরে বিনিয়োগমুখী হতে শুরু করেছেন।

মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা আরো জানান, বর্তমান বাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে পূর্বের সব বাধা পেরিয়ে বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হচ্ছেন। এ অবস্থায় যারা নতুনভাবে বিনিয়োগে আগ্রহী তাদের এ বাজার সম্পর্কে না বুঝে কিংবা অতি লোভে পড়ে অথবা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিনিয়োগে না আসাই ভালো। তবে দীর্ঘ মেয়াদে যারা বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছেন তাদের জন্য এখন উপযুক্ত সময় বলে মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ জানান, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের বিকল্প নাই। সাধারণ বিনিয়োগকারীর টাকায় কখনো লেনদেন বাড়ে না। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বাজারের শক্তিশালী ভীত রচনার বিষয়টি নির্ভর করে। তারা বাজারকে সক্রিয়ভাবে সাপোর্ট দিলে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে এ অর্থনীতিবিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here