স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যুৎ বিতরণী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) মাসিক বোর্ড সভায় হাজির প্রত্যেক সদস্য পান ১০ হাজার টাকা করে, অথচ কোম্পানির একজন দারোয়ানের মাসিক বেতন মাত্র আট হাজার টাকা। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে আগে এই অসমতা নিরসনের দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

সোমবার বিদ্যুতের মূল্য হার সমন্বয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে ডেসকোর বিরুদ্ধে এ বৈষম্যের অভিযোগ করেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর এম শামছুল আলম।

শুনানিতে ডেসকো গ্রাহক পর্যায়ে তাদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৬.৩৪ শতাংশ বা ৫২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করলে শামছুল আলম দাম না বাড়িয়ে আগে এ ধরনের বৈষম্য নিরসনের দাবি জানান। গণশুনানিতে ডেসকোর পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাঈদ সারোয়ার। শুনানি গ্রহণ করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, আবদুল আজিজ খান ও মাহমুদউল হক ভূঁইয়া।

ক্যাবের উপদেষ্টা প্রফেসর শামছুল আলম ডেসকোর এমডির উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কোম্পানি প্রতিমাসে দুটি বোর্ড মিটিং আয়োজন করে। এসব মিটিংয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ১১ জন বোর্ড সদস্য উপস্থিত থাকেন। মাত্র দু-এক ঘণ্টার বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব সদস্যদের প্রত্যেকে ১০ হাজার করে টাকা পান। অথচ কোম্পানির একজন গার্ডের সারা মাসের বেতন মাত্র আট হাজার টাকা। এ ধরনের বৈষম্য কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এসব বৈষম্য চালু রেখে বিদ্যুতের দাম কাড়ানোর প্রস্তাব মেনে নেয়া যায় না। উত্তরে ডেসকো এমডি বলেন, আমরা যেটা করি সেটা আইন মেনেই করি।

ডেসেকোর এমডি সাঈদ সারোয়ার তাদের প্রস্তাব পেশ করে বলেন, গত ৮ বছরে ৯ দফায় বিদ্যুতের পাইকারি দাম বেড়েছে ২০৩ শতাংশ। একই সময়ে খুচরা দাম বেড়েছে ৯১ শতাংশ। ফলে বিতরণ ব্যয়সহ প্রতি কিলোওয়াট/ ঘণ্টায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫২ পয়সা। এবার বাল্ক বিদ্যুতের দাম বাড়লে ঘাটতি আরো বাড়বে। এ অবস্থায় খুচরা বিদ্যুতের দাম ৬.৩৪ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন।

শামছুল আলম ডেসকো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রস্তাবের সমালোচনা করে আরো বলেন, ডেসকো তার প্রস্তাবে আধুনিকায়নের জন্য বিদেশি ঋণনির্ভর  বেশকিছু প্রকল্পের ব্যয় ধরেছে চার হাজার কোটি টাকা। এই ঋণের কারণে ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। এর প্রভাব গিয়ে পড়বে ভোক্তাদের ওপর। কার স্বার্থে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে তা জানতে চান তিনি।

প্রফেসর আলম বলেন, চীনা  কোম্পানির লোকজন মন্ত্রণালয়ে ঘুর ঘুর করে। তাদের প্রেসক্রিপশনে এসব আজগুবি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না।

ক্যাবের এ প্রতিনিধি বলেন, ডেসকোর শেয়ার বিক্রি হয়। তা থেকে কোম্পানির কোনো লাভ হয় না। গ্রাহকের ক্ষতি হয়। তাহলে এই শেয়ার বিক্রি নিয়ে কাদের আগ্রহ তা ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শপিং মলের বিদ্যুৎ বিলের তুলনায় রাস্তার পান দোকানের বিল বেশি হওয়ার সমালোচনায় তিনি বলেন, এসি গাড়িতে চড়ে গিয়ে এসি দোকানে ব্যবসা করছেন। আবার ক্রেতারাও এসি গাড়ি হাঁকিয়ে সেখানে যাচ্ছেন। সেই শপিং মলের দোকানের বিল আদায় করছেন ৭.৪৯ টাকা। আর রাস্তার পাশে যে পান দোকানি, তার কাছ থেকে আদায় করছেন ৯.৮০ টাকা। এসব প্রশ্নের জবাবে ডেসকোর কর্মকর্তারা নীবরতা পালন করেন।

এদিকে গতকাল বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ডেসকোর খুচরা বিদ্যুতের দাম আট পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করে। আজ মঙ্গলবার ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) খুচরা বিদ্যুতের মূল্য হার সমন্বয়ের পর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম কমানোর ওপর অনুষ্ঠিত শুনানির মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here