খুলনা প্রিন্টিংয়ের উৎপাদন শিগগিরই চালুর আভাস

0
989

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের (কেপিপিএল) দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। এনবিআরের বিরুদ্ধে কোম্পানির দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিয়ম পরিপালনের শর্তে কেপিপিএলের গুদাম, বন্ড লাইসেন্স ও বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) খুলে দিয়েছে সংস্থাটি। সব বাধা দূর হওয়ায় প্রায় দুই বছর পর তাদের কারখানায় আবার পুরোদমে উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনবিআরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ২০১৫ সালের শুরু থেকেই কাঁচামাল আমদানি করতে পারেনি না কেপিপিএল। প্রায় দুই বছর স্থানীয় কোম্পানি থেকে কাঁচামাল ক্রয় করে কারখানা চালু রাখলেও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সমস্যা সমাধান হওয়ায় এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আবার উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে কেপিপিএল।

জানতে চাইলে কেপিপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কেপিপিএলের গুদাম ও বিআইএন খুলে  দিয়েছে এনবিআর। বন্ডেড ওয়্যারহাউজ খুলে দেয়ায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানিতে প্রতিবন্ধকতাও দূর হয়ে গেছে। কারখানা প্রস্তুত করে সেখানে এরই মধ্যে উৎপাদন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শতভাগ প্রস্তুতি শেষ করে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ঘোষণা করতে চাই আমরা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেপিপিএলের কারখানা চালুর উদ্যোগ নিতে গত বছর থেকেই কেপিপিএলের সঙ্গে রাজস্ব ও শুল্ক কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে লকপুর গ্রুপ ও কেপিপিএলের কারখানা চালু করতে আইনি বাধা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এনবিআরের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি-সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার করে কেপিপিএল।

ফলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির স্থগিত থাকা বিআইএন আনলক করা, বন্ড লাইসেন্স নবায়ন করা ও গুদাম খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। তবে মামলার শুনানিতে কোম্পানিকে নিয়মিত উপস্থিত হতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সম্প্রসারণ ও বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতার অতিরিক্ত কাঁচামাল সংরক্ষণ করায় কেপিপিএলের বিরুদ্ধে ২৭১ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তুলে এনবিআর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল কোম্পানিকে জরিমানা করে রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

জরিমানা পরিশোধ না করলে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে খুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি গুদাম সিলগালা করে এনবিআর। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এনবিআরের জরিমানার আদেশ ও সিলগালার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এনবিআরের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত।

একই সঙ্গে এলসির মাধ্যমে আনা পণ্য ১৫ দিনের মধ্যে খালাসেরও নির্দেশনা দিয়েছিল আদালত। ওই সময় কোম্পানির গুদাম ও কারখানা খুলে দিলেও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় কোম্পানিটিকে নতুন করে কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দেয়নি এনবিআর। ছাড় করা হয়নি আগে আমদানি করা কাঁচামালও।

ফলে স্থানীয় কাঁচামাল দিয়েই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল কোম্পানিটি। তবে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি কারখানা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় কেপিপিএল কর্তৃপক্ষ। তথ্য সূত্র : বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here