খুলনা পাওয়ারের ১৮ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি ও তথ্য বিভ্রান্তি

0
783

সিনিয়র রিপোর্টার : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) বাংলাদেশের চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণে এ তথ্য জানা যায়। অন্যদিকে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে তথ্য বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নেট মুনাফা (অনিয়ন্ত্রিত সুদ ব্যতীত) হয়েছে ৬৯ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২ টাকা ১ পয়সা। তবে এর আগের হিসাব বছরের এ তিন মাসে মুনাফা হয় ৫৮ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ইপিএস ১ টাকা ৭০ পয়সা।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) লঙ্ঘন করে মুনাফা কম দেখিয়েছে। কোম্পানির ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এমন আপত্তি তুলেছেন নিরীক্ষক। এ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি।

নিরীক্ষক তার মন্তব্যে উল্লেখ করেন, আর্থিক প্রতিবেদনের নোট নং ২.১তে খুলনা পাওয়ার কোম্পানির ইউনিট-২ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী স্থায়ী সম্পদের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রায় নেয়া বকেয়া ঋণ থেকে উদ্ভূত বিনিময় হারের পার্থক্য সমন্বয় করেছে। তবে তা বিএএস-২১ অনুসারে বৈদেশিক বিনিময় হার পরিবর্তনের প্রভাব হিসাব করা হয়নি।

যদিও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার পার্থক্য বিএএস-২১ অনুসারে আয়-ব্যয় বিবরণীতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। আর এ নিয়ম পরিপালন করলে সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা আরো ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়বে। ২০১৩ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নেট মুনাফা হয় ১৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫ টাকা ৬২ পয়সা। এ সময় কোম্পানিটির ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

এদিকে কেপিসিএলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী পাওয়ার কোম্পানির অবসায়ন নিয়েও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক তার মন্তব্যে। এসব বিষয়ে নিরীক্ষক আপত্তি না তুলে গুরুত্বারোপ করেছেন। আর্থিক বিবরণীর নোট-২.৭ উল্লেখ করে নিরীক্ষক বলেন, উদ্বৃত্তপত্রে প্রকৃত চলতি দায় থাকা সত্ত্বেও খানজাহান আলী পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনগত অস্তিত্ব অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে কোম্পানিটি এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা ও অবস্থান আর্থিক প্রতিবেদনের ৭.৩তে তুলে ধরেছে।

জানা গেছে, খানজাহান আলী পাওয়ারের অবসায়নজনিত ক্ষতি হয় ২০ কোটি ৬৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা, যা মূলত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে পাওনা ছিল। এছাড়া নোট নং ২.৭তে উল্লেখ করা হয়েছে আর্থিক প্রতিবেদনগুলো ‘গোইং কনসারন’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। কেপিসিএলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ২০ কোটি ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা চলতি দায় থাকা সত্ত্বেও পরিচালকরা কোম্পানিকে ‘গোইং কনসারন’ গণ্য করেন।

পরিচালকদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, খানজাহান আলী পাওয়ারের চলতি মূলধন খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড প্রদান করে। আর তা আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের পর কমপক্ষে ১২ মাস পর্যন্ত পর্যাপ্ত চলতি মূলধন সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি কোম্পানির নগদ প্রবাহ সুবিধাজনক অবস্থা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এ সরবরাহকৃত তহবিল পরিশোধ করতে হবে না।

পরিচালকরা বিশ্বাস করেন, চলতি মূলধন সরবরাহ করা হলে খানজাহান আলী পাওয়ার কোম্পানিকে অদূর ভবিষ্যতে ব্যবসা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। নোট ৭.৩ তে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের অবসায়ন ক্ষতি বাবদ বাদ দেয়া ২০ কোটি ৬৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা কেপিসিএলের ইউনিট টু সমন্বিত দেনাদার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পরিমাণ বিপিডিবি কোম্পানির মাসিক ইনভয়েস থেকে বাদ দিয়েছে। বর্তমানে এ অর্থ আদায় নিয়ে বিপিডিবির সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মনে করে, সংশ্লিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিপিডিবির কাছ থেকে আদায় করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here