খুলনা পাওয়ারের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি, ২৩ কোটি পাওনা টাকা আদায়

0
1764

সিনিয়র রিপোর্টার : খুলনা পাওয়ার লিমিটেডের (কেপিসিএল) দুই ইউনিটের আরো ৫ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন করে সময় বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (বিপিডিবি) আবেদন করলে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার কমিটি তা অনুমোদন করেছে।

একই সঙ্গে বিপিডিবির কাছে ২৩ কোটি ১২ লাখ পাওনা টাকা কেপিসিএল কর্তৃপক্ষকে সম্প্রতি প্রদান করা হয়েছে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ বছর মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। একইসঙ্গে ভাড়াভিত্তিক এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন করে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেয়াদ বৃদ্ধির করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলো- মেসার্স খুলনা পাওয়ার ইউনিট কোম্পানি-২ লিমিটেড, সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেড, মেসার্স ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনা ঘাট লিমিটেড, ডাচ্-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড, মেসার্স এক্রোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সার্ভিস লিমিটেড এবং মেসার্স খানজাহান আলী পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

বিপিডিবির বিশেষ একটি সূত্র এমন তথ্য সোমবার এমন নিশ্চিত করেছে। তবে বিপিডিবির কাছ থেকে ২৩ কোটি ১২ লাখ পাওনা টাকা সম্পর্কে কেপিসিএল কোম্পানির সিএফও সোহরাব আলী খান ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য’ হওয়ায় স্টক বাংলাদেশের কাছে কোন ‘মন্তব্য করতে সম্মত হননি’।

নতুনভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি ও কেপিসিএল ইউনিট-২ এর প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের ট্যারিফ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা ৩৩ পয়সা। যা আগে ছিল ১৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

মেয়াদ ও আয় বৃদ্ধি সম্পর্কে খুলনা পাওয়ারের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। হতাশ হওয়ার আর কিছু নেই, কারণ কোম্পানির কোন দায় বা ঋণ নেই।

তিনি বলেন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা  ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তাই কোম্পানির মুনাফা তুলনামূলকভাবে বাড়বে বলে আশা করছি।

খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮ মাসের জন্য মোট ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে খুলনা পাওয়ার। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিদ্যুৎখাতের কোম্পানিটি।

তবে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমে হয়েছে হয়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা।

২০১০ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৩৬১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ও অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি টাকা। রিজার্ভ ৫২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৫ দশমিক ৭৩, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৯৫ ও বাকি ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে সর্বশেষ ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর,২০১৬) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ আয় কমেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here