ক্ষীণ হচ্ছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের সম্ভাবনার দুয়ার

0
2130

সিনিয়র রিপোর্টার : সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই অনিয়মের অভিযোগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হলে ‍সিভিও কর্তৃপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়।

পরিশোধন না করে কনডেনসেট (গ্যাসের উপজাত) জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় এর আগে সিভিওর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কনডেনসেট বিক্রি বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। দ্বিতীয় বার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে সিলেট গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন হচ্ছে। চলতি মাসে বা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে কোম্পানিটিকে ‘এ’ থেকে নামিয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্তানান্তর করা হবে। রোববার ডিএসইর একাধিক সূত্র এমন আভাস দিয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের তথ্য আলামত ‍হিসেবে প্রকাশ করেছে ডিএসই।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতের নির্দেশনা এবং কোম্পানির আমলনামা পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সব মিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে কোম্পানির ভাগ্য! দিনে-দিনে আরো ক্ষীণ হয়ে আসছে সম্ভাবনার দুয়ার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। জবাব দিতে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স জব্দ এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবে সরকার।

সরকারের কঠিন সিদ্ধান্তকে কোমল করতে এবং মন্ত্রণালয়ের কড়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ‘ভেবেচিন্তে’ সংবাদ প্রকাশ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সিভিও কর্তৃপক্ষ।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের সম্ভাবতা জানতে টেলিফোনে সম্প্রতি কথা কোম্পানির সেক্রেটারি মি. কায়কোবাদের সঙ্গে। তিনি কোম্পানির ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান।

CVO. chairmanতবে কোম্পানির চেয়ারম্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন। তবে তার মোবাইলে আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, আদালত আমাদের পক্ষে গ্যাস সরবরাহের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বন্ধের কারণ হিসেবে তিনি আরো বলেন, জ্বালানী মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত আমাদের কোন কাগজপত্র দেয়নি। এ বিষয়ে আপনি আমাদের কোম্পানির ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, সিভিও প্রেট্রোক্যামিকেলস গত অর্থবছরে কনডেনসেট ক্রয়ের পরিমাণ, কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রল বিক্রির পরিমাণ জানাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। গ্যাসের (কনডেনসেড) উপজাত পদার্থ সরবরাহ নিয়ে রহস্য আরো ঘনিভূত হচ্ছে।

habib ullah, cvoরহস্য উম্মোচনে যোগাযোগ সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম শামীমের সঙ্গে। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেছিলেন, আদালতে রিট করা হলে আদালত দুবার আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে আশঙ্কার কারণ নেই, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

গ্যাস (কনডেনসেড) উপজাত পদার্থ ১০ আগস্ট (প্রকাশিত প্রতিবেদন) ‘৭ দিনের মধ্যে কোম্পনিকে গ্যাস সরবরাহে’ জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

তবুও অনিশ্চিত কোম্পিানির ভাগ্য। পরিশোধন না করে কনডেনসেট (গ্যাসের উপজাত) জ্বালানি তেলে ভেজাল করায় সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাখ্যা চেয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে চিঠির মাধ্যমে হুমকিও দিয়েছে সরকার।

কোম্পানির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে সোমবার, ১৬ জানুয়ারি সকালে ৬ জন পরিচালকের মধ্যে নুরুল আলম আনছারী এবং মো. আমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি। কোম্পানির সেক্রেটারি এবং অন্য কর্মকর্তারাও মুখ খুলছেন না।

জ্বালানী মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি ক্রয় করেছিল ১৯ হাজার টন কনডেনসেট। বিপিসির কাছে বিক্রি করেছে মাত্র ৭৯২ টন (৯ লাখ ৯০ হাজার লিটার) পেট্রোল। কিন্তু বাকি ১৮ হাজার ২০৮ টন কনডেনসেটের হিসাব নেই। ক্রয় করা কনডেনসেট দিয়ে অন্য কোনো জ্বালানি তৈরি করেছে কিনা সে সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কোম্পানিটি।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে কনডেনসেট বিক্রি বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। কনডেনসেট বাজারে ছেড়ে দিয়ে জ্বালানি তেল ভেজাল করা বিপিসি’র এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, সরকারী কোনো সংস্থা যেন ‘ভেবেচিন্তে’ সংবাদ প্রকাশ করে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানায় কোম্পানিটি। পরবর্তীতে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল কনডেনসেট সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এ প্রেক্ষিতে সাত দিনের মধ্যে কনডেনসেট সরবরাহে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি তাদের চুক্তি বাতিল করেছে।

পাশাপাশি উচ্চ আদালত পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি ও খণিজ সম্পদ বিভাগকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পেছনের খবর : সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল নিয়ে জটিল ‘রহস্য’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here