ক্ষমতায় গেলে পোশাক শিল্পের জন্য মন্ত্রণালয়

0
654

স্টাফ রিপোর্টার : আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পোশাক শিল্পের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে আজ পোশাক শিল্প সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। আগামী দিনে খালেদা জিয়াকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়া হলে তিনি এ শিল্পের ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।’

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাও হোটেল প্রাঙ্গণে শনিবার বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপজিশন (বাটেক্সপো)-২০১৩-এর ২৪তম সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ সব কথা বলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপির পূর্বঘোষিত ২৫ অক্টোবর সমাবেশের দিন আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এতে যদি কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় তার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য কর্মসূচির মতো আগামীতে পোশাকখাতকে বাইরে রেখে কর্মসূচি দেয়া হবে।’

পোশাক শিল্পের ক্ষতি করে এমন কোনো কার্যক্রম বিএনপি অতীতেও নেয়নি ভবিষৎতেও নেবে না বলে জানান দলের এ স্থায়ী কমিটির সদস্য।

খসড়া শ্রম আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যা শিল্পে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পোশাক শিল্পের জন্য আলাদা পুলিশ বাহিনী গঠন করলেও সরকারের দুর্নীতির লাল ফিতায় তা আটকে রয়েছে।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেদের সুবিধার জন্য তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, আবার নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতায় থাকতে তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে।’ পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন,  দেশের অবহেলিত নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নারী ক্ষমতায়তনে এ শিল্পের অবদান লক্ষ্যণীয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পকে ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ উল্লেখ্য করে অনুষ্ঠানের সভাপতি বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাকে কেন্দ্র করে দেশে বিভিন্ন সহায়ক শিল্প ও সেবাখাত গড়ে উঠেছে, ব্যাংক-বীমাখাত প্রসার লাভ করেছে। কিন্তু দু:খের বিষয় দেশের অস্থিতিশীল রাজনীতির কবলে পড়ে আজ এ সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার ও বিরোধী দল সমন্বয়ের মাধ্যমে শুধু পোশাক শিল্প নয়, সব অর্থনেতিক এজেন্ডায় জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হবে। যেখানে সরকার, বিরোধীদল, সুশীল সমাজ সবাইকেই সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে এবং ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করায় তারপক্ষে খন্দকার মোশাররফ হোসেন যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম।

এ সময় অন্যদের উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here