ক্ষতির মুখে গ্লাক্সো স্মিথক্লাইন, তিন প্রান্তিকে আয় কমেছে

1
991
স্টাফ রিপোর্টার : বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান গ্লাক্সো স্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে হেলথ ফুড ড্রিংকস। প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির ৭০ শতাংশ আসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য থেকে। সম্প্রতি এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে কোম্পানিটি।
পাশের দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে হেলথ ফুড ড্রিংকস আমদানি হওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জিএসকে বাংলাদেশ। আর এর প্রভাবে চলতি বছরের তিন প্রান্তিকে কোম্পানির আয় কমেছে।

গ্লাক্সো স্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৪ সালের প্রথম নয় মাসের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির পণ্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, বাংলাদেশের বাজারে তাদের প্রধান পণ্য হরলিকসের বিক্রি কমে যাওয়াতেই টার্নওভার কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে তাদের মুনাফায়। তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এ বিষয়ে জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের ফিন্যান্স ডিরেক্টর ও কোম্পানি সেক্রেটারি জিনিয়া তানজিনা হক বলেন, হরলিকস বিক্রি কোম্পানির আয়ের অন্যতম উৎস। তবে বর্তমানে অন্য দেশ থেকে অবৈধভাবে পণ্যটির আমদানি বেড়ে যাওয়ায় জিএসকে বাংলাদেশের বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। ফলে কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে।

২০১৪ সালের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সে সময় কোম্পানির মোট বিক্রি ছিল ৭১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫০৬ কোটি টাকা এসেছে হরলিক্স, মালটোভাসহ বিভিন্ন হেলথ ফুড ড্রিংকস থেকে। ফার্মাসিউটিক্যালস খাত থেকে আসে টার্নওভারের অবশিষ্ট অংশ।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, জিএসকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা-সংশ্লিষ্ট ভোগ্যপণ্য বিক্রির প্রায় ৮৫ শতাংশই হরলিকসের অবদান। বর্তমানে কোম্পানিটি পাঁচ ধরনের হরলিকস হেলথ ফুড ড্রিকস বিক্রি করে থাকে। এর বাইরে মালটোভা, বুস্ট হেলথ ফুড ড্রিংকস ছাড়াও  হরলিকস ব্র্যান্ডের বিস্কুট বাজারজাত করে থাকে।

এখন দেশের বাজারে জিএসকে বাংলাদেশ উৎপাদিত হরলিকসের পাশাপাশি ভারতীয় হরলিকসও পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, ভারতীয় হরলিকসের দাম বেশি হলেও বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। ভারতীয় হরলিকসের উৎপাদক জিএসকে ইন্ডিয়া।

তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জিএসকে বাংলাদেশের টার্নওভার হয়েছে ১৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানির উৎপাদন খরচ কমলেও পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, মূলত হরলিকস বিক্রিতে বিভিন্ন প্রচারমূলক সাবসিডি বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় মোট টার্নওভারের প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৯৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ টাকা ৮ পয়সা। প্রথম তিন প্রান্তিকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৭৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৭ টাকা ১৬ পয়সা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here