ক্রেতা-সংকটে ভুগছে পুঁজিবাজার

1
1593

হোসাইন আকমল : বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে। ৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার মতিঝিল ও কারওয়ান বাজারের কয়েকটি সিকিউরিটিজ হাউজে এ চিত্র দেখা গেছে। কিছু হাউজ অফিসিয়াল লোকজন ছাড়া একেবারেই ফাঁকা। আর কিছু হাউজে বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি হাতে গোনা। বাজারের নেতিবাচক অবস্থার পেছনে দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাইরে আরো কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের মিকা সিকিউরিটিজের শাখা ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিন প্রতিবেদককে বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ইনস্টিটিউট বা মিউচুয়্যাল ফান্ডগুলোর আস্থাহীনতাও দায়ী। তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতির জন্য ইনস্টিটিউট বা মিউচুয়্যাল ফান্ডগুলো পুঁজিবাজারে বৃহত্তর বিনিয়োগের সাহস হারিয়ে ফেলছেন। অনেক ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা আর সংশয়ে ভুগছেন তারা। সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চিন্তিত। তাই এ প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন অথবা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এতে বাজারের সার্বিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় লোকসানের ভয় তাড়া করছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বিনিয়োগের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। এর প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ায় দিনদিন কমে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি।

নিজাম উদ্দিন আরো বলেন, যাচ্ছেতাই আইপিও অনুমোদন বা ঘন ঘন অনুমোদন দেয়াও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অর্থাৎ, যেসব কোম্পানি তাদের অর্থবছর শেষ হওয়ার পরও ডিভিডেন্ড দেয়না এবং যে কোম্পানিগুলো অনেকাংশেই দুর্বল ভীত্তির- সে কোম্পানিগুলো আইপিওতে আসায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে।

মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড
মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড

সিনহা সিকিউরিটিজের অথোরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ রুকসানা পারভীন বলেন, বিভিন্ন কারণে শেয়ারবাজারের অবস্থা কিছুটা খারাপ থাকায় সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আসা-যাওয়া কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য দেশে চলমান সংঘাতময় পরিবেশ অনেকটাই দায়ী। সেই সঙ্গে মোবাইল ট্রেডিং শুরু হওয়াতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কমছে বলে মনে করেন তিনি।

সিনহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড
সিনহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড

বিডিবিএল সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী এ্যাডভোকেট রাসেল বলেন, মার্কেট যখন পড়তে থাকে- তখন বাজার ধরে রাখার জন্য ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) শেয়ার ক্রয় না করে বরং বিক্রি করে। এতে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কমে যায়। ফলে বাজার তখন আরো পড়তে থাকে। ডাউন মার্কেটে অর্থের নিরাপত্তা কমে যায়। এক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই লোকসানের মুখ দেখে। যার ফলে তারা বিনিয়োগবিমুখ হয় এবং ক্রেতার সংখ্যা আরো কমতে থাকে। সিকিউরিটিজ হাউজগুলোও তখন শনির দশা থেকে বাদ পড়েনা।

বিনিয়োগকারী ইঞ্জিনিয়ার আসির উদ্দিন বলেন, কোম্পানি কর্তৃক ইপিএস বাণিজ্য এবং বোনাস বাণিজ্যের ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়ে। কিছু কিছু কোম্পানি শেয়ার বিক্রয়ের সময় ভাল দর পাওয়ার জন্য কারসাজি করে তাদের ইপিএস বেশি দেখায়। আর তারা যখন শেয়ার ক্রয় করে- তখন ইপিএস কম দেখায়। এতে ঐসব কোম্পানির কাছে প্রতারিত হয় বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া বেশি দরে শেয়ার বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে অথবা কোম্পানির রিজার্ভ কমিয়ে ডিভিডেন্ড বাড়ানো হয়। প্রকারান্তরে সাধারণ বিনিয়োগকারীই এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিগুলোর এরূপ চালাকি বুঝতে পারছে এবং প্রতারণা আর লোকসানের ভয়ে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ কমছে। তাদের মাঝে আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে পুঁজিবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি দিন দিন কমছে।

1 COMMENT

faruk শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here