ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার, ৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

0
496
প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা।

সিনিয়র রিপোর্টার : ৯১৯ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। টাকা পাচারের মামলায় গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা। বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়

ঘটনায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটকের পর ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এসব কথা জানিয়েছেন। এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ বিদেশে পাচার করেছে। শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

এরা হলেন রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান মিরা, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি। শুল্ক গোয়েন্দা এম এ কাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে নেয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য এসেছে। টাকার অঙ্ক বেশি না কম সে দিকে যাচ্ছি না। তবে পাচার যে হচ্ছে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। এই টাকা পাচার রোধে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আরো ১০-১২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তথ্য আছে। এগুলোর অনুসন্ধান চলছে। অর্থ পাচার প্রমাণিত হলে বিএফআইইউ, দুদক ও এনবিআর একত্রে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করবে।

টাকা পাচারকারীদের এনবিআর চেয়ারম্যান উদ্দেশ্যে বলেন, এখন দেশে বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তারপরও বিদেশে টাকা পাচার করে লাভ কি? সবাই এ টাকা ভোগও করতে পারে না। সুইস ব্যাংকও টাকা ফেরত দেয় না- এমন খবরও বের হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা উধাও করে, বিদেশে টাকা পাচার করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে এনবিআর উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে টাকা ফেরত আনার বিষয়ে নিয়োগ দেয়া হবে। কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেয়া হবে সেটা চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পারদর্শী কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে।

চোরাচালান প্রতিরোধে এনবিআর কঠোর অবস্থান নিয়েছে মন্তব্য করে মোশাররফ হোসেন ভুঁঁইয়া বলেন, ভারতে বাংলাদেশের দুটি ট্রেন যাতায়াত করে। এ দুটি ট্রেনে চোরাচালানের তথ্য আছে। এগুলোতে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।

তিনি আরো বলেন, মদ-বিয়ারের চেয়েও ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। সমাজের জন্য একটি বিভীষিকার নাম ইয়াবা। টেকনাফে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে যারা সম্পদ অর্জন করেছে তাদের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে আয়কর ও কাস্টমসকে বলা হয়েছে। তাছাড়া আলাদা আরেকটি টাস্কফোর্সও পাঠানো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here