কোম্পানির স্পন্সর শেয়ার বিক্রি করলে শাস্তি

0
829

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্পন্সরদের শেয়ার বিক্রিতে চলমান অরাজকতা বন্ধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠকে বৃহস্পতিবার তারা এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা ফেরানো ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) শেয়ার ইস্যু করে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত আরোপ করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।  বিকালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ডিএসইর প্রস্তাব অনুসারে, পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অর্থৎ কোনো কোম্পানির বিদ্যমান পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা হলে সেটি সর্বোচ্চ আড়াই কোটি টাকার প্লেসমেন্ট করতে পারবে।

এছাড়া বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে স্পন্সর শেয়ার বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরানোর  লক্ষ্যে নতুন শর্ত আরোপসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত ১৭ এপ্রিল, বুধবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এছাড়া প্লেসমেন্টধারীর সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫০ নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ডিএসই। বর্তমানে ১০০ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্লেসমেন্টে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া যায়।

বিএসইসিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। সভায় অংশ নেন বিএসইসির কমিশনার প্রফেসর হেলাল উদ্দিন নিজামী, ড. স্বপন কুমার বালা, ডিএসইর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এ হাশেম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন প্রমুখ।

ডিএসইর প্রস্তাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক, উদ্যোক্তা (Sponsor) ও প্লেসমেন্টধারীদের শেয়ার সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি কোম্পানি লিমিটেডে (সিডিবিএল) আলাদা ক্যাটাগরিতে বিশেষ মার্কিংসহ সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে।

ডিএসই পরিচালক ও স্পন্সরদের শেয়ারের উপর বিদ্যমান লক-ইনের (শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা) মেয়াদ বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রসপেক্টাস অনুমোদনের দিন থেকে তিন বছর সময় পর্যন্ত প্লেসমেন্ট শেয়ারের উপর লক-ইন থাকে।

ডিএসই প্রসপেক্টাস অনুমোদনের দিনের পরিবর্তে স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারের লেনদেন শুরু দিন থেকে লক-ইনের সময় গণনার প্রস্তাব করেছে। স্পন্সর ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই।

বর্তমানে যেদিন তারা ঘোষণা দেন, সেদিন থেকেই শেয়ার বিক্রি করতে পারেন। ডিএসইর প্রস্তাবে শেয়ার বিক্রির ঘোষণা ১৫ দিন পর থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ একজন পরিচালক বা স্পন্সর যেদিন শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেবেন তার ১৫ দিন পর থেকে তিনি ওই শেয়ার বিক্রি শুরু করতে পারবেন।

ডিএসই পরিচালক ও স্পন্সরদের শেয়ার ধারণের বিষয়েও কিছু প্রস্তাব করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জটি পরিচালকদের ন্যুনতম ২ শতাংশ এবং স্পন্সরদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের যে আইনী বাধ্যবাধকতা আছে তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসিকে।

শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা একটি ক্যাটাগরি করারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি কোনো পরিচালকের ২ শতাংশ শেয়ার না থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পদ শুন্য ঘোষণার ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে ডিএসই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here