শ্যামল রায়ঃ রাশেদুল কবীর,পেশায়-শিক্ষক, পাশাপাশী শেয়ার ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন অনেক দিন ধরে। তিনি ট্রেড করেন ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেডে। অন্য কাজের  পাশাপাশি শেয়ার ব্যবসায় স্বাচ্ছন্দ করা যায় এজন্যই তিনি শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। শেয়ার বাজারে রসার্বিক বিষয় নিয়ে স্টক বাংলাদেশের সাথে একান্ত আলাপ চারিতায় জানালেন তার বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা।

শেয়ার ব্যবসায় আমার হাতে খড়ি হয় প্রথমে কলিগদের মাধ্যমে। তারা অনেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি শেয়ার ব্যবসাও করতেন। তাদের দেখাদেখি আমিও প্রথমে প্রাইমারি শেয়ারে আসি। এর পরে আস্তে আস্তে সেকেন্ডারি মার্কেটে ঢুকে পরি। প্রথম যখন সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রবেশ করি আমার কেন জানি মনে হয়েছিল, শেয়ার মার্কেট খুব জটিল জায়গা। সেই দিনের সেই অনুভুতি আজও বদলাইনি।

কারন এখানে কে যে কাকে কিভাবে বিট করছে তা বুঝা মুশকিল। এখানে সব ধরনের লোকের ইনভলবমেন্ট  এবং ইনভেষ্ট থাকে কাজেই এদের প্রত্যেকের বুদ্ধি এবং পরিকল্পনা ভিন্ন রকম। এখানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনবিদ, অর্থনীতিবিদ সবাই বিনিয়োগ করেন। তাই বলে সবাই যে লাভ করতে পারেন তা কিন্তু নয়।

আমাদের পুজিবাজার একটা রহস্যে ঘেরা জায়গা, কারণ এখানে কোন নিয়ম নীতি মানে না।  পৃথিবীতে এর চাইতে অনেক বড় ক্যাপিটালের মার্কেট রয়েছে । কিন্তু তারা চলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম নীতির মধ্য দিয়ে। চাইলেই যে কেউ মেনিপুলেশনের সুযোগ নিতে পারে না। কিন্তু আমাদের পুজিবাজারে সব সম্ভব।

পুজিবাজারে থেকে এটা এতদিনে জানা হয়ে গেছে আমার। কারণ এখানে ইপিএস পিইরেসিও ন্যাভ ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখে বিনিয়োগকারীরা একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে তা সম্ভব হয় না। কারণ এগুলো সুযোগমত বাড়ানো কমানো যায়। এটা কিভাবে করানো হয় আমার বোধগোম্য নয়।

এগুলো হয়ে থাকে ডিএসই সিএসই এবং সিকিউরিটিজ কমিশনের গোচরেই। এজন্যই হয়ত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে না। অন্যদিকে হয়ত কোম্পানিই নেই তার শেয়ারের দাম বাড়ছে হু হু করে। তবে এখন অনেকটা ভালো হচ্ছে।

মনে হচ্ছে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং ইচ্ছার কারণে অনেকটা নিয়মের মধ্যে চলে এসেছে আমাদের পুজিবাজার। ডিএসই সিএসই বিসেক এবং আইসিবি বেশ শক্তভাবে পুজিবাজারকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছে। সরকারও সবদিক দিয়ে পুজিবাজারকে ভালো করার চেষ্টা করছে। এটা ভালো বাজারের পূর্বাভাস। আর সাধারণ মানুষের তেমনত কোন ক্ষেত্র নাই।

অনেকটাই নিরুপায় হয়ে পুজিবাজারে বিনিয়োগ করে। নিজের বিজনেস পলিশির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, চেষ্টা করি ভালো যে সমস্ত কোম্পানি আছে সে সমস্ত কোম্পানীর শেয়ারে বিনিয়োগ করার। এছাড়া যাদের ইপিএস ভালো পিইরেশিও ভালো কোম্পানীর প্রডাক্ট দেশে বিদেশে চলে। সেইগুলোই কেনার চেষ্টা করি।

আমার চোখের সামনে এই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হতে দেখেছি। এই বিষয়টা সব সময় আমার মাথায় রাখার চেষ্টা করি। আর পুজিবাজার অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। যেমন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক অবস্থা এইগুলো বিবেচনায় রেখে শেয়ার কেনার চেষ্টা করি। কখনো লাভ করি আবার কখনো লস হয়ে যায়। তবে লসটা যাতে কম হয়, সেই চেষ্টাটা বরাবরি করে থাকি।

1 COMMENT

Mahfujur Rahman শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here