কোনো দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি হচ্ছে সেই দেশের অর্থনীতির আকার পরিমাপের একটি পদ্ধতি। একটি দেশের জিডিপি বলতে বোঝায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের ভেতর উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্য। সবচেয়ে বেশি জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে এমন ২০টি দেশের তথ্য উপস্থাপন করা হলো [২০.০৫.২০১৭ পর্যন্ত]।

বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দীর্ঘ সময় ধরেই ৬ শতাংশের ঘরে অবস্থান করছে। গত অর্থবছর এ হার সরকারি হিসাবে ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছে। কিন্তু বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থা এবং দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা এ তথ্য মানতে নারাজ। তাদের মতে, প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরেই রয়েছে। সেটি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। কারো মতে আরও কম। তবে সরকার দৃঢ়তার সঙ্গেই বলছে, প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ঘর অতিক্রম করেছে।

২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ইরাকের, ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। যুদ্ধপরবর্তী ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে ইরাক। বৈদেশিক বিনিয়োগ হচ্ছে। এ কারণে ইরাকের প্রবৃদ্ধির হার বেশি। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ইরাকের সার্বিক অবস্থা এখন খুবই করুণ।

প্রবৃদ্ধির হারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে তুরস্ক, তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। দেশটি নানা ধরনের শঙ্কার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

তৃতীয় স্থানে আছে মোনাকো, তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশ ভারত আছে চতুর্থ স্থানে। তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। চীন একই বছরে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। ষষ্ঠ স্থানে আছে ইরান। তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। সপ্তম স্থানে আছে ভিয়েতনাম। তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। অষ্টম স্থানে আছে শ্রীলংকা। তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। কম্বোডিয়া ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে নবম স্থানে রয়েছে। দশম স্থানে রয়েছে মিয়ানমার ও নেপাল। তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

পাকিস্তান প্রবৃদ্ধির হারে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার কম। কেননা তারা আগেই অবকাঠামো ও শিল্প খাতে উন্নয়ন করেছে। যে কারণে এখন নতুন অবকাঠামো কম হচ্ছে। ফলে তাদের প্রবৃদ্ধির হারও কম। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড ও ওমানের ৪ শতাংশ, সুইডেনের ৩ দশমিক ৩০, পোল্যান্ডের ২ দশমিক ৮০, দক্ষিণ কোরিয়ার ২ দশমিক ৮০, অস্ট্রেলিয়া ও কুয়েতের ২ দশমিক ৫০, মেক্সিকোর ২ দশমিক ৩০, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ১ দশমিক ৬০ শতাংশ, কানাডার ১ দশমিক ৪০ ও কিউবার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নেতিবাচকের দিক থেকে প্রথম ইয়েমেন ২৮ দশমিক ১০ শতাংশ, দ্বিতীয় সিরিলিয়নের ২৩ দশমিক ৯০ ও তৃতীয় ভেনিজুয়েলার ১৮ শতাংশ।

তথ্য : প্রত্রিকা থেকে সংগৃহিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here