কে এন্ড কিউর উৎপাদন বন্ধ

0
539

সিনিয়র রিপোর্টার : কোম্পানি বন্ধ। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েই উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। সারেন্ডার করা হয়েছে ফ্যাক্টরি ও ট্যাক্স-ভ্যাটসহ সব ধরনের লাইসেন্স। ১৫ বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে কোম্পানির জমি ও কারখানা। তবু তরতরিয়ে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারের দাম।

Screenshot_2
সোমবার দুপুরে শেয়ার লেনদেনের চিত্র

গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। আর ৭ কার্যদিবসে এর দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশের বেশি। এমন অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কে এন্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের শেয়ারে।

Screenshot_3
সোমবার দুপুরের ডিএসইতে শেয়ার লেনদেনের চিত্র

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ৯ দিনে কে এন্ড কিউর শেয়ারের দাম ১৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ২৬ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। মাঝখানে শেয়ারটির দাম বেড়ে ২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গড়ে প্রতিদিন শেয়ারটির দাম বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে সোমবার সকালে ডিএসইতে শেয়ার ২৪.৩০ টাকায় লেনদেন হতে দেখা যায়।

কে এন্ড কিউর শেয়ারের উল্লম্ফন শুরু হয় চলতি মাসের ২ তারিখে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়, কোম্পানির সব জমি ও কারখানার কার্যালয় সিজে ফুড (বাংলাদেশ) নামের অপর একটি কোম্পানির কাছে ১৫ বছরের জন্য ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে কে এন্ড কিউর পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানি দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের মালিকানাধীন মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কে এন্ড কিউ। এই কোম্পানির প্রধান দুটি ইউনিটের একটিতে ড্রাইসেল ব্যাটারিতে ব্যবহৃত কার্বন রড উৎপাদন করা হত। অন্য ইউনিটে উৎপাদন করা হতো আলকাতরা।

এ ছাড়া কোম্পানিটি কয়েক ধরনের কীটনাশক পুনরায় মোড়কজাত করে থাকে। শুধু উৎপাদন বন্ধ নয়, কোম্পানিটি তার ট্রেড লাইসেন্স, কারখানার লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স, ট্যাক্স-ভ্যাট লাইসেন্সসহ সব ধরনের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন জানিয়েছে।

৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান এখন চার কোটি টাকার বেশি। দেশে ড্রাইসেল ব্যাটারির সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল রেডিও এবং টর্চলাইটের জন্য। কিন্তু মোবাইল ফোনে রেডিওর পাশাপাশি এমপি থ্রি ও এমপি ফোর থেকে গান শোনার সহজ সুযোগের কারণে রেডিওর ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে।

অন্যদিকে রিচার্জেবল টর্চলাইট এবং মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ লাইটের কারণে ব্যাটারিচালিত টর্চ লাইটের ব্যবহারও দিন দিন কমে। এসব কারণে ব্যাটারির চাহিদা কমে যাওয়ায় কে এন্ড কিউ উৎপাদিত কার্বন রডের চাহিদাও প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে। এসব কারণে গত কয়েক বছর ধরেই লোকসান দিয়ে চলেছে কোম্পানিটি।

চার কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান এখন চার কোটি টাকার বেশি। এমন অবস্থাতেই কোম্পানিটি তার সব ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

কে এন্ড কিউর শেয়ারের উল্লম্ফন চলছে মূলত গত ২ মে থেকে। গত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রথম ৬ দিন টানা দর বেড়েছে শেয়ারটির। কমেছে মাত্র একদিন। গত ৮ মে কোম্পানিটি তার কারখানা প্রাঙ্গণ ও অফিস অন্য কোম্পানির কাছে ভাড়া দেয়ার কথা জানায়। আর তার পরদিন শেয়ার মূল্যের উল্লম্ফনের মাত্রা বেড়ে যায়। গত ৯, ১০ ও ১১ মে প্রতিদিনই কে এন্ড কিউর শেয়ারের দর বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি হারে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ১৫ বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ৩ বছরে প্রতি বছর কোম্পানিটি জমির জন্য প্রতি বর্গফুটে ভাড়া পাবে ৮ টাকা। আর অফিস ভবনের জন্য প্রতি বর্গফুটে ১২ টাকা করে ভাড়া পাওয়া যাবে।

কোম্পানির দেয়া তথ্য অনুসারে, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অফিস ভবনের জায়গা কতটুকু আর কারখানা প্রাঙ্গণের কতটুকু তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই গড় ভাড়া ১০ টাকা ধরে হিসাব করলে দেখা যায়, ভাড়া বাবদ কোম্পানিটি ১১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারে।

ভাড়া থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং ট্যাক্স-ভ্যাট বাদ দিলে কোনো মুনাফা থাকার সম্ভাবনা নেই। উল্টো কোম্পানিটিকে বর্তমানের মতোই লোকসান গুনে যেতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here