কেয়া কসমেটিকসের সম্পদ নিলাম ১৭ জুলাই

0
2351

সিনিয়র রিপোর্টার : অনাদায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করার দায়ে কেয়া কসমেটিকসের গাজীপুরের কারখানার মালামাল, ভবন ও যন্ত্রপাতি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। ২৬ জুন কোম্পানিটির সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ঋণের অর্থ আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটি।

চলতি জুলাই মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত নিলামের দরপত্র গ্রহণ করা হবে এবং সেদিনই দরপত্র বাক্স খোলা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে নিলামের ঘোষণা দেয়ার পর পরই ব্যাংকটির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে কেয়া কসমেটিকস।

এরআগে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেয়া গ্রুপের মালিক আবদুল খালেক পাঠানকে গ্রেপ্তার করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা। কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের নামে কৃষি ব্যাংক থেকে ১১১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় খালেক পাঠানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখা ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, যার চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পাঠান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদা পারভীন, পরিচালক মাসুম পাঠান ও তাসকিন কেয়া। চলতি বছরের মে পর্যন্ত কোম্পানি এবং এর চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালকদের কাছে ব্যাংকের পাওনা সুদাসলে ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সুদসহ অন্যান্য খরচ আদায়ে এ ঋণের বিপরীতে প্রাথমিক জামানত হিসেবে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ীর জরুনে অবস্থিত কারখানায় প্লেজকৃত ও হাইপোথিকেটেড মালামাল যেখানে যে অবস্থায় আছে এবং ৩৩ শতাংশ বা এক বিঘা জমি যেখানে কারখানার ভবন ও যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো বিক্রি করা হবে।

নিলামের বিষয়ে জানতে চাইলে কেয়া কসমেটিকসের কোম্পানি সচিব মো. নূর হোসেন বলেন, আমরা ব্যাংকের কাছে ঋণের সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলাম। সুদ মওকুফ করা হলে আমরা ঋণের টাকার পুরোটাই একসঙ্গে পরিশোধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রাজি হলেও পরে পর্ষদ সুদ মওকুফের বিষয়টি অনুমোদন করেনি।

নিলামের ঘোষণা দেয়ার পরই আমাদের পক্ষ থেকে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা চাইছি সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে।

এদিকে কেয়া কসমেটিকসের ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সোনালী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখা থেকে নেয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সিসি লোন ৯ কোটি ৯২ লাখ ও সিসি হাইপো ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের নিলাম বিজ্ঞপ্তি অনুসারে কোম্পানিটির কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেয়া কসমেটিকসের মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৪৯৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ (লং টার্ম লোন) ৮৫৯ কোটি ৮৫ লাখ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ (শর্ট টার্ম লোন) ৬৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কেয়া কসমেটিকসের চলতি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৭১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

পেছনের খবর : ঋণের দায়ে কেয়া গ্রুপের মালিক গ্রেপ্তার

পেছনের খবর : কেয়া গ্রুপের পরিচালক খালেক পাঠান জামিনে মুক্ত

আরো খবর : কেয়া গ্রুপের ঋণ নিয়ে সংশয়, ব্যবসা ভালো নেই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here