আতিউরের দায়িত্বকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় বৃদ্ধি

0
605

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পদত্যাগে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সাত বছর (২০০৯-২০১৫) মেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত বিদেশ সফরসহ বে-হিসাবী ব্যয়ের জন্য এই উল্লম্ফন বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। অথচ একই সময়ের আয় কমেছে দেড়শ’ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাৎসরিক ব্যয় ছিল ৬৭৭ কোটি টাকা। আর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাৎসরিক ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ শেষ অর্থবছরে ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা তার দায়িত্ব গ্রহণের বছরের তুলনায় ২০০ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে সাত বছরের ব্যবধানে মোট আয় কমেছে ১৪৭ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের দায়িত্ব গ্রহণকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় ছিল ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। আর ২০১৫ সালে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকা।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড বাজেট ডিপার্টমেন্টের এক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘গভর্নর স্যার অর্থ অনুমোদন ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা অর্থ ছাড় দিতে বাধ্য। এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। মূলত দেশের বাইরে উনি গিয়েছেন। সে জন্য ব্যয় কিছুটা বেড়েছে।’

গভর্নর হিসেবে ৭ বছর দায়িত্ব পালনকালে ড. আতিউর রহমান ৭২ বার বিদেশ সফরে গেছেন। এ সময়ে তিনি বিশ্বের ৩৪টি দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছেন ভারত। দেশটিতে গেছেন ১৩ বার। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে তিনি ১০ বার ভ্রমণ করেন।

বিপুল পরিমাণ এই ব্যয়ের বড় অংশ খরচ হয়েছে প্রশাসনিক খাতে। সাত বছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫৩৮ কোটি টাকা।

নিউইয়র্ক রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকার ঘটনায় চুরির ঘটনায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে কার্যত পদত্যাগে বাধ্য হন ড. আতিউর রহমান। একই ঘটনায় ডেপুটি গভর্নর আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেয় সরকার।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা ছাড়াও ড. আতিউরের দায়িত্ব পালনকালীন রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংক সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে হল-মার্ক গ্রুপ সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া জনতা ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ১১শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “ব্যাংকিং খাত থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ এখন পর্যন্ত কারও বিচার হয়নি। এটা খারাপ দিক। কারণ এতে অপরাধীদের কাছে ‘অপরাধ করে পার পাওয়া যায়’ এমন মেসেজ যাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অশুভ ইঙ্গিত।”Screenshot_2

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here