কেডিএস অ্যাকসেসরিজের উৎপাদন বেড়েছে

0
483

স্টাফ রিপোর্টার : হ্যাঙ্গার উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান বোতাম উৎপাদন ইউনিটের সক্ষমতা বাড়িয়েছে কেডিএস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে স্থাপন করা নতুন প্যাকেজিং লাইনের কারণেও কোম্পানিটির উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে।

এসবের সুফল দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিটির বার্ষিক বিক্রিতে। সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটির বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে খরচ বাড়ায় কোম্পানির নিট মুনাফা তুলনামূলক কম বেড়েছে।

কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শুরুতে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে নতুন হ্যাঙ্গার উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান বোতাম উৎপাদন ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় কেডিএস অ্যাকসেসরিজ কর্তৃপক্ষ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন হ্যাঙ্গার ইউনিট ও সম্প্রসারিত বোতাম ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। আর নতুন এ দুই ইউনিট চালুর সুবাদেই সদ্যসমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানির উল্লেখযোগ্য বিক্রয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তাছাড়া কেডিএসের সিংহভাগ আয় আসে প্যাকেজিংয়ে ব্যবহূত কার্টন থেকে। আইপিওর অর্থে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন প্যাকেজিং লাইনে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৬০ লাখ পিস বা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আগের বছরের ধারাবাহিকতায় সদ্যসমাপ্ত হিসাব বছরে এ খাত থেকেও আয় বেড়েছে। তবে খরচ বাড়ায় নিট মুনাফায় ৬ শতাংশেরও কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সভায় ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করে কেডিএসের পর্ষদ। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির বিক্রি হয়েছে ২০৭ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল ১৫৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ সময় কেডিএসের কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বার্ষিক মুনাফা প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ২ টাকা ২০ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮৮ পয়সায়।

এদিকে, ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কেডিএস অ্যাকসেসরিজ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত চিটাগং বোট ক্লাবে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে কোম্পানিটি। রেকর্ড ডেট ১৮ সেপ্টেম্বর।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুরের পশ্চিম ডোগরিতে অবস্থিত কারখানায় নতুন হ্যাঙ্গার ইউনিট ও সম্প্রসারিত বোতাম ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন হ্যাঙ্গার ইউনিট স্থাপনে ৪ কোটি ১১ লাখ ৫২ হাজার আর বিদ্যমান বোতাম ইউনিটের সম্প্রসারণে ২ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

বিদেশী ঋণ, স্থানীয় ব্যাংক ঋণ ও কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য ইউরোপ ও চীন থেকে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। নতুন হ্যাঙ্গার ইউনিটের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা দেড় লাখ পিস। আর সম্প্রসারিত বোতাম ইউনিটের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৮০ জিজি (৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪০ পিস)। কোম্পানির প্রাক্কলন অনুসারে এ দুই ইউনিটের সুবাদে বার্ষিক বিক্রি বাড়বে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

বর্তমানে কেডিএস অ্যাকসেসরিজের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি ৬ লাখ টাকা। রিজার্ভ ৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৬ দশমিক ১৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার।

ডিএসইতে সর্বশেষ ৮২ টাকা ৯০ পয়সায় কেডিএস অ্যাকসেসরিজের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৬ টাকা ১০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৫৪ টাকা ২০ পয়সা।

প্রসঙ্গত, কেডিএস অ্যাকসেসরিজের মূল পণ্য গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহূত কার্টন। এর বাইরে স্বল্প পরিসরে প্যাকেজ বাঁধাইয়ের লেবেল, ইলাস্টিক ফ্যাব্রিকস, অফসেট প্রিন্টিং, হিট ট্রান্সফার প্রিন্টিং, গার্মেন্টসের বোতাম ও গাম টেপ উৎপাদন করে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here